অন্তর্বর্তী সরকারের তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া বারবারই নানা কর্মকাণ্ড ও ফেসবুক পোস্টে বিতর্কে জড়াচ্ছেন। মন্ত্রী পদ মর্যাদার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকেও তাদের একাধিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, এমনকি শপথ ভঙ্গের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ।
মঙ্গলবার ভোররাতে এক ফেসবুক পোস্টে মাহফুজ আলম জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তোলেন। তিনি লেখেন, এক পরিচিত ব্যক্তি বিটিভির একটি টেন্ডার ও বিদেশ সফর নিয়ে পার্সেন্টেজ সুবিধার প্রস্তাব দিয়েছিলেন, যা তিনি প্রত্যাখ্যান করেন। পরে ওই ব্যক্তির কথোপকথন রেকর্ড করে সাংবাদিকের কাছে পাঠানোর চেষ্টা নিয়েও অভিযোগ করেন মাহফুজ।
পোস্টে মাহফুজ লেখেন, ‘একটা সার্কেলে প্রায় সবাই দুর্নীতিগ্রস্ত, কিন্তু আমি এক টাকাও নেইনি, এটা অনেকের সহ্য হয় না।’ যদিও পরে তিনি পোস্টটি সংশোধন করে ‘নতুন দলের মহারথী’ পরিবর্তন করে লেখেন ‘বিভিন্ন দলের মহারথী’।
এর আগে দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক নিয়ে বিতর্কে তিনি একবার ত্রিপুরাকে বাংলাদেশের অংশ দেখিয়ে ম্যাপ পোস্ট করেন, যা তীব্র সমালোচনার মুখে মুছে ফেলেন। যুদ্ধাপরাধ ও আলেম সমাজকে নিয়ে পোস্ট করেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে তার বাবা বিল্লাল হোসেন নিজ নামে ঠিকাদারি লাইসেন্স নেওয়ার বিষয় নিয়ে।
আসিফ ফেসবুকে দাবি করেন, তার বাবা সরল বিশ্বাসে স্থানীয় একজন ঠিকাদারের কথায় স্বাক্ষর করেছিলেন, যা পরে বাতিল করা হয়। সে সময় তিনি ফেসবুকে ক্ষমা চেয়ে নজির সৃষ্টি করেন। তবে প্রশ্ন ওঠে, বিষয়টি মিডিয়ায় এতো প্রচার না পেলে প্রভাব খাটিয়ে পিতার ঠিকাদারি লাইসেন্স বহাল থাকতো কি না।
সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে গত ২৯ জুন, যখন বিদেশ যাওয়ার সময় তার ব্যাগ থেকে গুলিভর্তি একটি ম্যাগজিন উদ্ধার হয়। এরপর একাধিক ফেসবুক পোস্টে আসিফ অভিযোগ করেন, বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ বিদেশে চলে গেছে এবং তাকে উদ্দেশ্য করে রাষ্ট্রীয় নজরদারি চলছে।
তিনি লেখেন, ‘আমি সরকারে থেকেও নিরাপদ নই, সাধারণ মানুষ তাহলে কতটা ঝুঁকিতে আছে?’ পাশাপাশি গণ-অভ্যুত্থানের কিছু অংশগ্রহণকারী ও প্রবাসী সাংবাদিকদের বক্তব্যের মধ্যে কোনও পার্থক্য নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের এ প্রসঙ্গে পাল্টা ফেসবুক পোস্টে তীব্র জবান দেন। তিনি বলেন, ‘সাধারণ নাগরিকরা আপনার মতো সুইজারল্যান্ড গিয়ে অন্যের টাকায় ব্র্যান্ডেড জামা কিনে ঘোরেন না, বা দুবাইয়ে উড়াল দিয়ে কমিশনের ভাগ বসান না।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আপনার কর্মকাণ্ডের অনেক কিছুই ক্যামেরার বাইরে ঘটেছে, সেগুলো প্রকাশ পেলে কী বলবেন, সেটা ভেবে রাখুন।’ তিনি অভিযোগ আনেন, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের সামরিক গোয়েন্দা বিভাগের সঙ্গে উপদেষ্টা আসিফের সখ্যতারও। পাশাপাশি বাবার ঠিকাদারি লাইসেন্স প্রাপ্তি নিয়ে খোঁচা দেন জুলকারনাইন।
এ দুই উপদেষ্টার সাম্প্রতিক এসব কর্মকাণ্ড নিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, তাদের আচরণ উপদেষ্টার মতো, নাকি এক্টিভিস্টের? রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একের পর এক বিতর্ক তৈরি করে তারা সরকারের ভাবমূর্তিকে বিপদে ফেলছেন বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।


