গুম বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

গুম বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: বাসস
Advertisement
Advertisement

‘গুম’ বা ‘এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধে সরকার পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে গুম ও এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

শনিবার রাতে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে জাতীয় সংসদে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ এবং ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। বিলগুলো যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে গুম ও অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

বাণীতে তিনি বলেন, গুম কিংবা অপহরণ শুধু একজন মানুষের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা নয়, এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যত জড়িয়ে থাকে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনেরা দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করেন, যেখানে স্বাভাবিকভাবে শোক প্রকাশেরও সুযোগ থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর কেউ কেউ ফিরে এলেও ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমসহ অসংখ্য নিখোঁজ ব্যক্তির এখনও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

আরও পড়ুন

গুমকে মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের ঘটনা বেশি ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে সরকারবিরোধী আন্দোলনকারী ও ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে গুমের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড চালানো হয়।

বাংলাদেশের বিগত সরকারের বিরুদ্ধে গুম ও অপহরণের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার দমনের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন মানুষকে আটক রাখার জন্য গোপন বন্দিশালা তৈরি করা হয়েছিল, যা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পায়।

দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থার হিসাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব নিখোঁজ ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সহানুভূতি প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে গুমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান তিনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর