জাতীয় জাদুঘরে স্বজনের ছবি হাতে অপেক্ষা করছেন গুমের শিকার পরিবারের সদস্যরা। কেউ বাবার ছবি ধরে আছেন, কেউ পড়ছেন প্রিয়জনের শেষ চিঠি। গুমের বিচার ও জবাবদিহির দাবিতে আয়োজিত চিত্র প্রদর্শনীতে ফুটে উঠেছে তাদের অপেক্ষা ও যন্ত্রণা।
‘ইন্টারন্যাশনাল ডে অব দ্য ভিকটিমস অব এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ উপলক্ষে এ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। এতে গুমের শিকার পরিবারগুলোর নানা স্মৃতি তুলে ধরা হয়েছে।
প্রদর্শনীর পাশাপাশি ‘টু মেক দ্য ডিসঅ্যাপিয়ারড অ্যাপিয়ার: ল, জাস্টিস, অ্যাকাউন্ট্যাবিলিটি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ শীর্ষক প্যানেল আলোচনা হয়। এতে সরকারের প্রতিনিধি, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও গুমের শিকার সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন ২০২৪-এর অধ্যাদেশ পাস করে সংসদে পেশ করেছে। এতে গুমের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড রাখা হয়েছে।’
নেত্র নিউজের নির্বাহী সম্পাদক নাজমুল আহসান বলেন, গুমের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঠেকাতে রাজনৈতিক ও সামাজিক ঐকমত্য থাকলেও তা অর্জনের পথ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।
বিএনপির সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, ‘অতীতে গুম দিবসে জাতীয় জাদুঘরের বাইরে দাঁড়াতে হতো। আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের হামলার আশঙ্কায় দ্রুত সরে পড়তে হতো।’
নতুন আইন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেই বাহিনী তদন্ত করতে পারবে না। অন্য বাহিনীকে তদন্ত করতে হবে।’
সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমেদ বিন কাসেম আরমান নতুন আইনের ১৪, ১৯ ও ২১ ধারা নিয়ে আপত্তি জানান। তিনি বলেন, ‘একই বাহিনীর একাংশ অপরাধ করলে অন্য অংশ দিয়ে তদন্ত করানো যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিশন।’
২১ ধারা বাতিলের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিথ্যা অভিযোগের জন্য শাস্তির বিধান থাকায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো অভিযোগ করতে নিরুৎসাহিত হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া প্রকৃত বিচার সম্ভব নয়। বর্তমানে শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগে স্বতন্ত্র তদন্তের সুযোগ নেই।’
মানবাধিকারকর্মী নুর খান লিটন বলেন, মোংলায় মিরাজ শেখ নিখোঁজের ঘটনায় প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্য ও ডিজিটাল প্রমাণে দায়ীদের বিষয়ে ইঙ্গিত মিলেছে। তবে সরকার এখনো বিষয়টি স্পষ্ট করেনি বলে দাবি করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের সাত খুনের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে সংবাদমাধ্যম ও মানবাধিকারকর্মীদের ভূমিকা ছিল সিদ্ধান্তমূলক।’
তিনি মানবাধিকার কমিশন বা আইসিটির মতো স্বাধীন সংস্থার মাধ্যমে তদন্তের দাবি জানান। গুমের শিকার পরিবারগুলোর স্বীকৃতি, সম্পদ হস্তান্তর ও অর্থনৈতিক সহায়তারও আহ্বান জানান।


