ইরান যুদ্ধে সেনা পাঠাবে না যুক্তরাজ্য, বললেন স্টারমার
ইরান যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি জড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার । তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, যুক্তরাজ্য ইরানে কোনো সেনা পাঠাবে না এবং এই যুদ্ধে অংশ নেবে না।
সোমবার সকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্টারমার বলেন, ‘এটি আমাদের যুদ্ধ নয় এবং আমরা এতে জড়িয়ে পড়ব না।’
তিনি আরও জানান, ব্রিটিশ নাগরিকদের জীবন ও স্বার্থ রক্ষা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তায় লন্ডন কেবল প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করতে যুক্তরাজ্য তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমরা এই যুদ্ধে কোনোভাবেই পা দিচ্ছি না।’
তবে সরাসরি সেনা না পাঠানোর ঘোষণা দিলেও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে যুক্তরাজ্য। মধ্যপ্রাচ্যে আকাশপথে ব্রিটিশ যুদ্ধবিমান মোতায়েন করা হয়েছে এবং মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তায় প্রতিরক্ষামূলক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্টারমার।
সূত্র: আল জাজিরা
হরমুজ প্রণালি না খুললে ইরানে হামলার হুমকি ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালি খুলে না দিলে ইরানের বেসামরিক বিদ্যুৎ স্থাপনা, তেল কূপ ও খারগ দ্বীপে হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ হুমকি দেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘তেহরান চুক্তিতে রাজি না হলে এ ধরনের পদক্ষেপ আরও বাড়ানো হবে।’
পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বড় ধরনের অগ্রগতি হয়েছে। কিন্তু যদি কোনো কারণে শিগগিরই চুক্তি না হয়; যা সম্ভবত হবে; এবং যদি হরমুজ প্রণালি ‘ব্যবসার জন্য খুলে দেওয়া’ না হয়, তবে আমরা ইরানের ক্ষেত্রে আমাদের ‘থাকা’ শেষ করব।’
তিনি আরও লেখেন, ‘তাদের সমস্ত বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেল কূপ এবং খারগ দ্বীপ সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দেব।’
সূত্র: আল জাজিরা
স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করে ইরানে হামলা চালাতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র
ইরানে হামলা চালাতে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বিমান স্পেনের আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না। স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্গারিতা রোব্লেস এ কথা জানিয়েছেন।
স্পেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী মাদ্রিদে সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে অভিযানের জন্য স্পেনের সামরিক ঘাঁটি বা আকাশসীমা ব্যবহার করতে পারবে না যুক্তরাষ্ট্র।

স্পেনের এই অবস্থানের ফলে মার্কিন সামরিক বিমানকে ভিন্ন পথ ব্যবহার করতে হবে। স্পেন অবশ্য জানিয়েছে, জরুরি ফ্লাইটগুলো এই নিষেধাজ্ঞার বাইরে থাকবে।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করে আসছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
নৌপ্রধান তাংসিরির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান
ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংগসিরির নিহত হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরান।
আইআরজিসির এক বিবৃতির বরাত দিয়ে ইরানের সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানিয়েছে, তাংগসিরি ‘তার আঘাতের তীব্রতার’ কারণে মারা গেছেন।
গত সপ্তাহে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ বলেছিলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী হামলা চালিয়ে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান আলিরেজা তাংগসিরিকে হত্যা করে।
তখন এ বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
সূত্র: আল জাজিরা।
ইসরায়েলের ২৬১ সেনা ও ৬ হাজারের বেশি মানুষ আহত
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাদের ২৬১ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তবে এখন পর্যন্ত কতজন সেনা মারা গেছেন, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি ইসরায়েল। খবর আল জাজিরার।
ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আহত ৬ হাজার আটজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে ১২১ জন এখনো চিকিৎসাধীন।
গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই অন্তত ২৩২ জন আহত ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেশাল ফোর্স
চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি আরও বাড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শুরুর এক মাস পর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন পদক্ষেপের অংশ হিসেবে দেশটির স্পেশাল অপারেশনস ফোর্স মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। তারা সেখানে হাজার হাজার মেরিন ও আর্মি প্যারাট্রুপারের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের দুইজন সামরিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এমন তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই কমান্ডোদের মধ্যে আর্মি রেঞ্জার্স এবং নেভি সিলস অন্তর্ভুক্ত, তবে তাদের নির্দিষ্ট কোনো মিশনের দায়িত্ব এখনো দেওয়া হয়নি। তবে বিশেষায়িত স্থল বাহিনী হিসেবে তাদের হরমুজ প্রণালিতে পাঠানো হতে পারে। অথবা তাদের খারগ দ্বীপ দখলের মিশনের অংশ হিসেবে পাঠানো হতে পারে। ইরানের ইসফাহান পারমাণবিক কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণেও তাদের কাজে লাগানো হতে পারে।
এই কমান্ডোদের সঙ্গে ২ হাজার ৫০০ মেরিন এবং আরও ২ হাজার ৫০০ নাবিক যোগ দিয়েছেন, যারা সম্প্রতি ওই অঞ্চলে পৌঁছেছেন। মোটের ওপর, মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ৫০ হাজারেরও বেশি মার্কিন সেনা মোতায়েন রয়েছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় প্রায় ১০ হাজার বেশি।
ইসরায়েলের নতুন বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ বাড়ল
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের মধ্যেই ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেট ২০২৬ সালের জাতীয় বাজেট অনুমোদন করেছে। এবারের বাজেটের আকার প্রায় ২৪৫ বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে সামরিক খাতের বরাদ্দ ৪৫ বিলিয়নের বেশি। এটি গত বছরের তুলনায় প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার বেশি, অর্থাৎ সামরিক বাজেট উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজায় নির্বিচার যুদ্ধ শুরু করেছিল ইসরায়েল। তার আগে ফেব্রুয়ারিতে ওই বছরের জাতীয় বাজেট পাস হয়েছিল। তখনকার তুলনায় এবারের বাজেটে সামরিক খাতে বরাদ্দ দ্বিগুণেরও বেশি।
নেসেটে বাজেট নিয়ে ভোটাভুটির আগে দেশটির কট্টর ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ‘ইসরায়েলের জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণ।’
ইসরায়েলি সেনাদের ওপর হামলা চালানোর দাবি হিজবুল্লার
লেবাননের সংগঠন হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, তাদের যোদ্ধারা উত্তর ইসরায়েল এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সেনাদের ওপর আক্রমণ চালিয়েছে।
সংগঠনটি জানিয়েছে, তারা উত্তর ইসরায়েলের মেটুলা শহর এবং দক্ষিণ লেবাননের খিয়াম আটককেন্দ্রের পূর্বে ইসরায়েলি সেনা ও তাদের যানবাহনের লক্ষ্যবস্তুতে রকেট নিক্ষেপ করেছে। সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে হামলা বাড়ানোর নির্দেশ নেতানিয়াহুর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তার দেশের সেনাবাহিনীকে দক্ষিণ লেবাননে আক্রমণ আরও বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে খবর প্রকাশ করেছে আল জাজিরা।
নেতানিয়াহু নর্দার্ন কমান্ডের একটি ভিডিও বক্তব্যে বলেন, ‘আমি ইতোমধ্যেই বিদ্যমান নিরাপত্তা বাফার জোন আরও সম্প্রসারণের নির্দেশ দিয়েছি। আমরা উত্তর ইসরায়েলের পরিস্থিতি মূলত পরিবর্তন করার ব্যাপারে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।’
তিনি এই পদক্ষেপকে তার দেশের ঘোষিত ‘গাজা মডেল’ কৌশলের সঙ্গে তুলনা করেছেন।
ইরানজুড়ে রাতভর সরকারপন্থিদের বিক্ষোভ সমাবেশ
ইরানে চলমান উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও দেশজুড়ে সরকারপন্থি সমর্থকরা রাতভর বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছেন। ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলার ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন শহরে এসব সমাবেশ চলছে।
দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর বন্দর আব্বাসে শত শত মানুষ জড়ো হয়ে পতাকা নাড়িয়ে সরকারের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে তাদের স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
এ ছাড়া একটি ‘ধরা পড়া মার্কিন ড্রোন’-এর প্রদর্শনীর চারপাশে বহু মানুষ জড়ো হওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
মধ্যাঞ্চলীয় শহর আবাদেহে রাতভর মিছিল করেছেন শত শত মানুষ। তারা পতাকা নেড়ে, ঢোল বাজিয়ে এবং সরকারপন্থি স্লোগান দিতে থাকেন। শহরটি সিরাজ ও ইসফাহানের মাঝামাঝি অবস্থিত।
একই ধরনের সমাবেশ উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর উরমিয়ার বেলায়াত ফকিহ স্কয়ারেও দেখা গেছে, যা তুর্কি সীমান্তের কাছাকাছি। পাশাপাশি আফগানিস্তান সীমান্তসংলগ্ন দারমিয়ান এলাকাতে একই ধরনের বিক্ষোভের খবর পাওয়া গেছে।
ইরানের জ্বালানি তেলের নিয়ন্ত্রণ নিতে চাই: ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের তেল দখল করতে চান। ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপ দখল করার কথাও উল্লেখ করেছেন তিনি। ফিনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন তিনি।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, ট্রাম্প এই সম্ভাব্য পদক্ষেপের তুলনা করেছেন ভেনেজুয়েলাতে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে অপসারণের পর ওয়াশিংটন দীর্ঘমেয়াদে তেল শিল্প নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়।’
তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, আমার সবচেয়ে পছন্দের বিষয় হলো ইরানের তেল দখল করা। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে কিছু বোকা মানুষ বলে, তুমি এটা কেন করছ? তারা বোকা মানুষ।’
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা হয়তো খারগ দ্বীপ দখল করব, আবার নাও করতে পারি। আমাদের অনেক বিকল্প আছে। এর মানে হলো আমাদের সেখানে (খারগ দ্বীপে) কিছু সময় থাকতে হবে।’
খারগ দ্বীপে ইরানের প্রতিরক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি না তাদের কোনো প্রতিরক্ষা আছে। আমরা খুব সহজেই এটি দখল করতে পারি।’


