রিমান্ডে ‘দায়’ এড়াচ্ছেন নূরুল হুদা

রিমান্ডে ‘দায়’ এড়াচ্ছেন নূরুল হুদা
আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সিইসি কেএম নূরুল হুদা। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদাকে চার দিনের রিমান্ডে মিন্টো রোডে ডিবি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো অপকর্ম করেননি বলে দাবি করছেন। ভোটে অনিয়মের জন্য তিনি তৎকালীন ডিসি ও এসপিদের দায়ী করছেন। তার দাবি, ব্যালট পেপার, সিল, বাক্স ও ভোটকেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ হয়েছে ডিসি-এসপির নির্দেশে। মঙ্গলবার ছিল রিমান্ডের প্রথমদিন।

রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে রোববার সন্ধ্যায় আটকের পর সোমবার শেরেবাংলা নগর থানায় দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদার চারদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সোমবার ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান তার রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

শেরেবাংলা নগর থানার মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শামসুজ্জোহা সরকার জানিয়েছেন, আসামি কে এম নুরুল হুদাকে রিমান্ডে ১১টি বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি দায় এড়িয়ে জবাব দিচ্ছেন।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার হিসেবে তিনি নির্বাচন সুষ্ঠভাবে অন্তর্ভুক্তিমূলক সম্পন্ন করতে পারেননি এবং দেশকে গভীর সংকটের মধ্যে নিমজ্জিত করেছেন।

তিনি প্রশাসনকে একটি পক্ষে ব্যবহার করে সংবিধান অমান্য করেছেন, শপথ ঠিক রাখতে পারেননি। দণ্ডবিধি আইনের ১৭১ (ক) ধারার সংজ্ঞা মতে নির্বাচনের ছদ্মবেশ ধারণ করে দিনের ভোট রাতে করেছেন। ষড়যন্ত্রমূলকভাবে সরকারি আদেশ, সাংবিধানিক ক্ষমতা হ্রাস, দেশের জনগণের ভোটাধিকার লঙ্ঘন ও তরুণ সমাজকে ভোটে বিমুখ, ভারমূর্তি নষ্ট করেছেন।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার থাকা অবস্থায় কার পরামর্শে ও সহযোগিতায় ভোটকেন্দ্রে নিয়োজিতদের দ্বারা দিনের ভোট রাতে সম্পন্ন করে মিথ্যা বিবৃতির মাধ্যমে একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করেছেন ও মিথ্যা গেজেট প্রকাশ ও বাস্তবায়ন করেছেন তা জানতে চাওয়া হচ্ছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একটি দলকে বিজয়ী ঘোষণা করার লক্ষ্যে জনগণের ভোটাধিকার হরণ করে প্রহসনমূলক নির্বাচন ব্যবস্থা গ্রহণ করে কত টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন তা জানতে চাওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হওয়া সত্ত্বেও তিনি কার ইন্ধনে ও কী স্বার্থে সম্পূর্ণভাবে জনগণকে ভোটের অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন তার কারণ জানতে চাওয়া হয়েছে।

তিনি ফ্যাসিবাদের ‘মূল নায়ক’। তার কাছ থেকে পাতানো নির্বাচনের কৌশল ও জড়িতদের নাম উদঘাটন করা দরকার।

কোন সংসদ আমলে কার কার কাছ থেকে কত টাকা ঘুষ গ্রহণ করে ফলাফল পরিবর্তন করে গেজেটে সাজানো ভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছেন তাও জানার চেষ্টা চলছে এ রিমান্ডে। মামলার এজাহারে পলাতক ও অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম ঠিকানা ও মামলার মূল রহস্যও জানতে চাওয়া হচ্ছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad