মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের হয়ে শিরোপা জয়ের নায়ক, দলে আক্রমণের প্রাণ, এবং সমর্থকদের হৃদয়ের স্পন্দন—সেই সুলেমান দিয়াবাতে আর থাকছেন না সাদা-কালো জার্সিতে। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, এই মৌসুমে তার সঙ্গে আর চুক্তি নবায়ন করা হবে না।
মোহামেডানে কাটানো কয়েক মৌসুমে দিয়াবাতের পারফরম্যান্স ছিলো চোখ ধাঁধানো। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১২ ম্যাচে করেছেন ৯৬ গোল। ফেডারেশন কাপে ১৪ ম্যাচে করেছেন আরও ১২টি গোল। ২০২৩ সালের ফেডারেশন কাপ জয় হোক কিংবা প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া—সবখানেই দিয়াবাতে ছিলেন মোহামেডানের সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে।
তবুও কেন তাকে ছাড়ছে ক্লাব? প্রশ্নটা ঘুরছে ফুটবলপ্রেমীদের মনে। একটি গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আবেগাপ্লুত দিয়াবাতে বলেন, ‘মোহামেডান আমাকে জানিয়ে দিয়েছে যে, আমাকে আর দরকার নেই। সব সম্পর্ক শেষ। আল্লাহ যা করেন, ভালোর জন্যই করেন। এখন আমি নতুন ক্লাবের সন্ধানে আছি।’
এ বিষয়ে মোহামেডান কোচ আলফাজ আহমেদ টাইমস অফ বাংলাদেশকে বলেন, ‘সেরা খেলোয়াড়কে হারানো কখনোই চাওয়ার মতো কিছু নয়। তবে বাস্তবতা হলো, ক্লাবের আর্থিক অবস্থা এখন এমন পর্যায়ে, যেখানে ১১ হাজার ডলারের মাসিক বেতন দিয়ে একজন বিদেশিকে রাখা সম্ভব নয়।’
তিনি আরও জানান, ‘আমরা প্রতি মৌসুমেই দিয়াবাতের বেতন বাড়িয়েছি। কিন্তু এখন ক্লাব এমন অবস্থায় যেখানে মাসিক ৫৫০০ ডলার দেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশি খেলোয়াড়দের বেতন বিলম্ব হলেও সেটা কিছুটা বোঝানো যায়, কিন্তু বিদেশিদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও স্পর্শকাতর।’
মোহামেডানের এই সিদ্ধান্ত আরও স্পষ্ট হয়েছে দলবদল এবং ক্লাব নির্বাচনকে ঘিরে অনিশ্চয়তা ঘনিয়ে ওঠায়। কোচ বলেন, ‘আগস্টে দলবদল শেষ, আর আমাদের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন আগস্টের শেষ সপ্তাহে। প্রেসিডেন্টহীন ক্লাবে বড় বাজেটের খেলোয়াড়কে ধরে রাখা কঠিন।’
রাফায়েল টুডু ও স্যামুয়েল বোয়াটেংকে দলে ভেড়ানো প্রসঙ্গে আলফাজ বলেন, ‘বোর্ড বুঝেই নিয়েছে যে, দিয়াবাতেকে রাখা যাবে না। তাই কম বেতনের খেলোয়াড়দের নিয়ে দল সাজানো হচ্ছে। বোয়াটেং এখনো কোনো অর্থ পাননি।’
শেষদিকে কোচ জানালেন, ‘দিয়াবাতের মতো খেলোয়াড়ের বিদায় কোচ হিসেবে আমার জন্যও কষ্টের। যে খেলোয়াড় ক্লাবকে এতটা কিছু দিয়েছে, তাকে ছাড়া মাঠে নামা সহজ হবে না।’
এই বিদায়ের পর, সুলেমান দিয়াবাতে কোথায় যাচ্ছেন সেটি এখনো নিশ্চিত নয়। তবে এটুকু নিশ্চিত, মোহামেডান জার্সিতে আর দেখা যাবে না এই গোলমেশিনকে।


