বাংলাদেশের বিতর্কিত ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারির ভিসা বাতিল করেছে অস্ট্রেলিয়া। সেদেশ থেকে তাকে বের করে দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। হিটলারের ইহুদি নিধনকে ‘ঐশ্বরিক শাস্তি’ হিসেবে প্রশংসা করায় তার বিরুদ্ধে অস্ট্রেলিয়া সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে বলে খবর দিয়েছে যুক্তরাজ্যের সংবাদপত্র ডেইলি মেইল।
খবরে বলা হয়, সোমবার রাতে ব্রিসবেনে তার এই সফর শুরু হয়। সূচি অনুযায়ী পরবর্তী সভাগুলো ৩, ৪ ও ৬ এপ্রিলে হওয়ার কথা ছিল। তবে মঙ্গলবার তার ভিসা বাতিল করে অস্ট্রেলিয়া সরকার। ‘লিগেসি অফ ফেইথ’ সিরিজের অংশ হিসেবে ইস্টার ছুটির সময় ব্রিসবেন, মেলবোর্ন, সিডনি এবং ক্যানবেরায় তার বক্তব্য দেওয়ার কথা ছিল। পূর্বনির্ধারিত সফর শেষ করার আগেই তাকে অস্ট্রেলিয়া থেকে বহিষ্কারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
অনলাইনে মিজানুর রহমান আজহারির প্রায় এক কোটি অনুসারী রয়েছে। তিনি এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং পশ্চিমা দেশগুলোতে নিয়মিত বক্তব্য দেন। এর আগেও উস্কানিমূলক বক্তব্যের অভিযোগে তাকে যুক্তরাজ্যে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়েছিল। বাংলাদেশেও বিগত সরকার তার সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।
অস্ট্রেলিয়ার লিবারেল সিনেটর জোনাথন ডানিয়াম ডেইলি মেইল’কে জানান, আজহারির আগমনের বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন থেকে তাদের আগেভাগেই সতর্ক করা হয়েছিল। তিনি বলেন, মন্ত্রী এবং অনেক সংসদ সদস্য ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ নামের সংগঠন থেকে এই বিষয়ে বার্তা পেয়েছিলেন।
ডেইলি মেইলে’র খবরে বলা হয়, গত বছর যুক্তরাষ্ট্রে দেওয়া এক বক্তব্যে আজহারি ইহুদিদের নিয়ে নানা ষড়যন্ত্রমূলক তথ্য প্রচার করেন। সেখানে তিনি হিটলারের কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং ইহুদিদের ‘বিষাক্ত কলঙ্ক’ ও ‘বিশ্বের বড় সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন।
আজহারি তার বক্তৃতায় দাবি করেন, এইডস রোগের জন্য ইহুদিরাই দায়ী এবং তারাই এটি তৈরি করেছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়, হিটলারের নিষ্ঠুরতা নিয়ে আজহারি তার বক্তব্যে উল্লাস প্রকাশ করেন।
সিনেটর ডানিয়াম আলবানিজ জানান, ২০২১ সালে হিন্দু বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যও তার ভিসা বাতিল করেছিল। ডানিয়ামের মতে, আজহারি কেবল ইহুদিবিদ্বেষীই নন, তিনি হিন্দু ধর্ম এবং বাঙালি সংস্কৃতিকেও অবমাননা করেছেন। এসব তথ্য সবার জানা থাকার পরও তাকে ভিসা দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
ইতিমধ্যে ‘অস্ট্রেলিয়ান ফেডারেশন ফর এথনিক অ্যান্ড রিলিজিয়াস মাইনরিটিজ ইন বাংলাদেশ’ আজহারির বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিল। তারা মনে করে, তার বক্তব্য সমাজে ধর্মীয় উত্তেজনা ছড়াতে পারে।


