কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নববধূকে নিয়ে বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে হামলার শিকার হয়েছেন কনের স্বজনেরা। এতে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালকদের হামলায় এক পুলিশ সদস্যসহ ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুটের অভিযোগও উঠেছে।
শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার কাটখাল গরুর হাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত পুলিশ সদস্যের নাম মো. কাউসার মিয়া। অন্য আহতদের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার মিঠামইন উপজেলার রানীগঞ্জ এলাকার স্বপন মিয়ার সঙ্গে বৈরাটি ইউনিয়নের মাইজচর গ্রামের জোনাকি আক্তারের বিয়ে হয়। শনিবার দুপুরে বিয়েবাড়িতে খাওয়া-দাওয়া শেষে নবদম্পতিকে নিয়ে কনের স্বজনেরা বাড়ি ফিরছিলেন।
সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে তাদের বহর কাটখাল গরুর হাট এলাকায় পৌঁছালে পেছন থেকে একটি অটোরিকশা তাদের সঙ্গে থাকা এক স্বজনকে ধাক্কা দেয়। অটোরিকশাচালক দয়াল মিয়ার সঙ্গে এ নিয়ে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন চালক কনের স্বজনদের ওপর হামলা চালান। এতে ১৪ জন আহত হন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলাকারীরা পুলিশের ওপরও চড়াও হন। এতে পুলিশ সদস্য কাউসার মিয়া আহত হন।
কনের স্বজন বাচ্চু মিয়া অভিযোগ করেন, দয়াল মিয়া কাটখাল গরুর হাট এলাকার অটোরিকশা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণ করেন। এলাকায় প্রভাব খাটানোর কারণে তার নেতৃত্বেই স্বজনদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। হামলার সময় তাদের টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার লুট করা হয়। আহত ১৪ স্বজনকে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হচ্ছে।
তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দয়াল মিয়ার স্ত্রী রূপ নাহার। দয়ালের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন। এ সময় রূপ নাহার বলেন, মাইজচরের লোকজন বিয়েবাড়ি থেকে ফেরার পথে সাইড দেওয়ার জন্য তার স্বামী অটোরিকশার হর্ন বাজান। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা তার স্বামীর ওপর হামলা করেন। তার স্বামীকেও হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
কাটখাল পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল গাফফার বলেন, দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। একপর্যায়ে দয়াল মিয়া ও তার লোকজন পুলিশের ওপর হামলা করেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


