এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া সোয়া চার লাখ শিক্ষার্থী চলতি বছরের মধ্যেই আবার পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এই শিক্ষার্থীরা কেবল অকৃতকার্য হওয়া বিষয়গুলোতেই অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, তিন বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীদেরও এ সুযোগ দেওয়া যায় কি না—সে বিষয়ে ভাবনা-চিন্তা চলছে। এটি বাস্তবায়ন হলে আরও বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবেন।
শনিবার সচিবালয়ে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এই পরিকল্পনার কথা জানান।
তিনি বলেন, পরীক্ষার্থীদের যেন একটি শিক্ষাবর্ষ নষ্ট না হয়, সে কথা বিবেচনা করেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবারের পরীক্ষায় এক বিষয়ে ফেল করেছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন। অর্থাৎ এক ও দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীর মোট সংখ্যা ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের একটি বছর নষ্ট হওয়া ঠেকাতে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে সম্পূরক পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। সাত বা ১৫ দিনের মধ্যে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব হলেও এতে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির পর্যাপ্ত সময় পাওয়া নিয়ে উদ্বেগ থেকে যায়। আবার পরীক্ষা নিতে বেশি দেরি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমেও জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তবে পরীক্ষার সময়সূচি চূড়ান্ত করার আগে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষার প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ও আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি সাইয়েদ আখতারুজ্জামান জানিয়েছেন, ফল প্রকাশের পর উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনের জন্য এক মাস সময় থাকবে। পুনর্নিরীক্ষার ফল প্রকাশের পরই সম্পূরক পরীক্ষার চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করা হবে।
সাইয়েদ আখতারুজ্জামান বলেন, তিন বা তার বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার সুযোগ দেওয়া হলে প্রক্রিয়াটি শেষ করতে তিন মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। শেষ পর্যন্ত কত বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এ সুযোগ পাবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
প্রচলিত নিয়মে এইচএসসি পরীক্ষায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের পরবর্তী বছরের পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। সে ক্ষেত্রে তারা শুধু অকৃতকার্য বিষয় অথবা চাইলে সব বিষয়ে পুনরায় পরীক্ষা দিতে পারেন।
এদিকে, সম্পূরক পরীক্ষার নির্দিষ্ট তারিখ, আবেদন প্রক্রিয়া, ফি ও অন্যান্য নিয়মাবলি এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি।
সরকারের এই আকস্মিক ঘোষণায় অকৃতকার্য শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে।
নওগাঁ শহরের এক অভিভাবক টাইমসকে বলেন, ‘আমার মেয়ে ফেল করবে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি। এমন ফলাফলে পুরো পরিবার ভেঙে পড়েছিলাম। তবে সরকার এক মাসের মধ্যে পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ দেবে শুনে কিছুটা আশার আলো দেখছি। এতে মেয়ের একটা বছর নষ্ট হওয়া থেকে বাঁচবে। এখন তাকে মানসিকভাবে শক্ত করে নতুন করে প্রস্তুতির জন্য উৎসাহ দিচ্ছি।’


