ফেনীর সোনাগাজীতে সন্তানদের মারামারি থামাতে গিয়ে গুরুতর আহত হানিফ (৫৫) নামে এক ব্যক্তি টানা ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মারা গেছেন।
মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে রিয়াদ নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত হানিফ উপজেলার চরছান্দিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রব প্রাইমারি স্কুল সংলগ্ন তমিজ উদ্দিন বাড়ির মৃত আব্দুল আহাদের ছেলে। গত ৯ অক্টোবর রব প্রাইমারি স্কুল এলাকায় এ মারামারির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, পারিবারিক বিরোধ ও মাদক সেবনকে কেন্দ্র করে ৯ অক্টোবর হানিফের তিন ছেলের সঙ্গে অন্য এক ছেলে মিনহাজের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তিন ভাই মিলে মিনহাজকে মারধর করেন। পরে হানিফ মারামারি থামিয়ে দিয়ে গোসল করতে চলে যান।
মারধরের শিকার হয়ে মিনহাজ বাড়ি থেকে বের হয়ে রব প্রাইমারি স্কুল এলাকায় গিয়ে পাশের বাড়ির বক্করের ছেলে বন্ধু মামুনকে ডেকে আনেন। তারা সড়কে দাঁড়িয়ে কথা বলার সময় জুমার নামাজ পড়তে মসজিদে যাওয়ার পথে হানিফের সঙ্গে মামুনের তর্ক হয়। এ সময় হানিফ তার ছেলের সঙ্গে মাদক সেবনের অভিযোগ তুলে মামুনকে মারধর শুরু করেন।
খবর পেয়ে হানিফের তিন ছেলে ঘটনাস্থলে এসে বাবার পক্ষ নিয়ে মামুনের ওপর চড়াও হন। পরে মামুনকে মারধরের খবর পেয়ে তার ভাই শুভ ঘটনাস্থলে এসে তাকে রক্ষার চেষ্টা করলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ বেধে যায়। একপর্যায়ে মিনহাজ তার বন্ধু মামুনের পক্ষ নিয়ে নিজের বাবা ও ভাইদের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ সময় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে বাবা হানিফ গুরুতর আহত হন।
স্থানীয়রা আহত হানিফকে উদ্ধার করে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতাল এবং পরবর্তীকালে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। গত সোমবার রাতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।
নিহতের স্ত্রী জেসমিন আক্তার জানান, একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পরও তার স্বামীকে বাঁচানো যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত হানিফের দুই সংসারে পাঁচ ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। তার মৃত্যুর পর মরদেহের ময়নাতদন্ত নিয়ে দুই স্ত্রীর মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রথম স্ত্রী জেসমিনের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করলে তিনি ময়নাতদন্তের জন্য ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। খবর পেয়ে সোনাগাজী মডেল থানা পুলিশ সেখানে গিয়ে ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করে।
এদিকে, হানিফের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রব প্রাইমারি স্কুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে রিয়াদ নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসেম জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের আটকে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় নিহতের প্রথম স্ত্রী থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।


