রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জকে সংযোগকারী দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে পানি বৃদ্ধির সঙ্গে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ ও ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। আগের থেকে পরাপারে সময় লাগছে প্রায় দ্বিগুণ।
সরেজমিন দেখা যায়, দৌলতদিয়া লঞ্চঘাটের বিশাল পন্টুনের কোথাও লঞ্চ বাধা নেই। সেখানে কেবল যাত্রীসাধারণ, টিকিট চেকার ও হকাররা অবস্থান করছেন। নদীতে প্রচণ্ড বেগে স্রোত বয়ে যাওয়ায় মাঝেমধ্যে পন্টুন কেঁপে উঠছে। চালকদের সতর্ক করতে পন্টুনে লাঠির মাথায় লাল কাপড় বেঁধে রাখা হয়েছে।
দেখা যায়, পন্টুনের পূর্বদিকে বসতভিটার কাছে দুটি লঞ্চ নোঙর করে রাখা হয়েছে। পাটুরিয়া থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী লঞ্চ পন্টুনের পূর্বদিকে এসে ভিড়ছে। তখন বেঁধে রাখা লঞ্চটি পাটুরিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
জানা যায়, বাধ্য হয়ে ছোট বা দুর্বল লঞ্চ এবং ফেরি বসিয়ে রাখা হয়েছে। স্রোতের তোড়ে টিকতে না পেরে পন্টুন ছেড়ে পাশের বসতবাড়ির কাছে রাখা হচ্ছে লঞ্চ। গত দুই সপ্তাহ ধরে এমনই অবস্থা চলছে।
এমভি নিপু-১ এর মাস্টার কাজী শফিক বলেন, ‘আগে দৌলতদিয়া থেকে পাটুরিয়া পৌঁছাতে ২০-২২ মিনিট সময় লাগত, এখন ৪৫-৫০ মিনিট লাগছে।’
পাটুরিয়া থেকে আসা লঞ্চের যাত্রী শাহ আলম ব্যাপারী বলেন, ‘লঞ্চে ওঠার পর স্রোতের কারণে ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে ৪৭ মিনিট সময় লেগেছে, আগে ২০ মিনিটেই পৌঁছে যেতাম।’
এমভি নজির এক্সপ্রেসের মাস্টার মুরাদ মিয়া জানান, ‘গত দুই সপ্তাহ ধরে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় লঞ্চ ভেড়াতে অনেক বেগ পেতে হচ্ছে এবং সময়ও দ্বিগুণ হয়ে গেছে।’ তীব্র স্রোতের বিপরীতে ফেরিগুলো চলতে ইঞ্জিনের গতি অনেক বাড়াতে হচ্ছে। আগের ৩০-৩৫ মিনিটের জায়গায় এখন ফেরি পৌঁছাতে ৫০ মিনিট থেকে প্রায় এক ঘন্টা পর্যন্ত সময় লাগছে।
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (এজিএম) মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন বলেন, ‘স্রোতের কারণে ফেরি চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং নদী পাড়ি দিতে আগের চেয়ে অনেক বেশি সময় লাগছে।’
তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১৬টি ফেরির মধ্যে ১২টি ফেরি চলাচল করছে, কারণ স্রোতের বিপরীতে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে এবং যানবাহনের চাপও কম।


