গুলশান থানায় করা মানিলন্ডারিং মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ কুমার আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
মঙ্গলবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত এ আদেশ দেয়।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শামদ্দোহা সুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।
চোরাচালানের মাধ্যমে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও হীরা কেনাবেচা এবং অর্থপাচারের অভিযোগে করা এ মামলায় দিলীপ আগরওয়ালাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিল পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। শুনানি শেষে আদালত এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফুল হাসান রিমান্ডের আবেদন করেন। মামলার সুনির্দিষ্ট ঘটনা উদঘাটন, স্বর্ণ ও হীরার উৎস অনুসন্ধান, এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত এবং অর্থপাচারের পরিধি নির্ধারণে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
আবেদন অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে রাজধানীর বনানী থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরে সিআইডির কাছে হস্তান্তরের পর তাকে গুলশান থানার সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মেডিকেল পরীক্ষা সম্পন্ন করে আদালতে পাঠানোর কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকার স্বর্ণের বার, অলংকার ও লুজ ডায়মন্ড বৈধভাবে আমদানি করা হয়। তবে একই সময়ে স্থানীয় বাজার থেকে ক্রয়, বিনিময় ও পরিবর্তন পদ্ধতিতে প্রায় ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ টাকার স্বর্ণ ও হীরা সংগ্রহের তথ্য পাওয়া গেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
সিআইডির অভিযোগ, এসব স্বর্ণ ও হীরার উৎস এবং সরবরাহকারীদের বিষয়ে প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র উপস্থাপন করা হয়নি। এ কারণে সংগৃহীত স্বর্ণ ও হীরার একটি অংশ অবৈধভাবে চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ করা হচ্ছে।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ও অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের পুলিশ পরিদর্শক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান শেখ বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলাটি করেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ কুমার আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পড়ে বিভিন্ন হত্যা মামলায়ও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এসব মামলায় বিভিন্ন মেয়াদে রিমান্ডে নেওয়ার পর নিম্ন ও উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্ত হন।
উল্লেখ্য, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দিলীপ কুমার আগরওয়ালা। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বাণিজ্যবিষয়ক উপকমিটির সদস্য ছিলেন।


