কক্সবাজারের টেকনাফের হ্নীলা ইউনিয়নের রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ে সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনকে থানায় হস্তান্তর করেছে যৌথ বাহিনী। শুক্রবার দুপুরে তাদের টেকনাফ মডেল থানায় সোপর্দ করা হয়।
উদ্ধার ব্যক্তিদের অনেকে জানান, তাদের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে পাহাড়ে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে তাদের ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগীরা।
টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানা থেকে উদ্ধার হওয়া ৫৭ জনকে শুক্রবার সকালে থানায় হস্তান্তর করেছে যৌথ বাহিনী। তাদের পরিচয় ও অন্যান্য তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ ছাড়া পাহাড়ে অভিযানের সময় গুলিতে সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ফরিদপুর জেলার নগরকান্দি ইউনিয়নের গ্রামে বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়ে।’
থানায় হেফাজতে থাকা উদ্ধার ব্যক্তিরা জানান, বন্দীদশা থেকে পালানোর চেষ্টা করেও তারা সফল হননি। পাহাড়ের আস্তানায় ৪০ থেকে ৫০ জনের একটি সশস্ত্র পাহারাদল ছিল। অস্ত্রধারীদের পাহারার কারণে বন্দীদের পক্ষে সেখান থেকে বেরিয়ে আসা কঠিন ছিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে টেকনাফের বিভিন্ন পাহাড়ি এলাকায় মানবপাচারকারী ও অপহরণকারী চক্রের সদস্যরা আস্তানা গড়ে তুলে অপরাধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। এসব আস্তানা থেকে সাধারণ মানুষকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায় এবং চাকরির প্রলোভনে মানুষকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনা ঘটছে। সবশেষ অভিযানে সেনাসদস্য নিহতের ঘটনা পাহাড়ে সক্রিয় সশস্ত্র অপরাধী চক্রের ভয়াবহতা নতুন করে সামনে এনেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু আটক ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করেই এ ধরনের অপরাধ বন্ধ করা সম্ভব নয়। পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের সব আস্তানা চিহ্নিত করে অস্ত্রধারীদের গ্রেপ্তার এবং দুর্গম এলাকায় নিয়মিত যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি উদ্ধার ব্যক্তিদের নিরাপত্তা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এদিকে মানবপাচারকারীদের গুলিতে সেনাসদস্য নিহতের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার জুমার নামাজের পর টেকনাফের বিভিন্ন স্থানে মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন ছাত্র প্রতিনিধিরা।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকালে রঙ্গীখালীর দুর্গম পাহাড়ে মানবপাচারকারীদের আস্তানায় অভিযান চালায় যৌথ বাহিনী। এ সময় সশস্ত্র মানবপাচারকারীদের সঙ্গে যৌথ বাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। এতে মানবপাচারকারীদের গুলিতে সৈনিক মোহাম্মদ. তিতাস শেখ (২৭) নিহত হন। অভিযানে মানবপাচারকারী চক্রের পাঁচ সদস্যকে আটক করা হয়। তাদের কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি দেশীয় তৈরি বন্দুক ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। অভিযানে সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ সদস্যরা অংশ নেন।


