এবারের উচ্চমাধ্যমিক ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল বেশ খারাপ হয়েছে। প্রায় ৫০ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। আর এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে উচ্চশিক্ষায়। এ বছর উচ্চশিক্ষায় প্রতি ১০টির মধ্যে চারটি আসনই ফাঁকা থাকতে পারে।
এবার সব বোর্ডে সব মিলিয়ে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন পরীক্ষার্থী। অন্যদিকে, সরকারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ এবং চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসন সংখ্যা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৩০৪।
সে হিসাবে পাস করা পরীক্ষার্থীর চেয়ে আসন সংখ্যা বেশি ১ লাখ ৮১ হাজার ৬১৯টি।
অবশ্য উচ্চ মাধ্যমিক পাস করা সবাই যে উচ্চশিক্ষা নিয়ে থাকেন তা নয়। গত তিন বছরের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করার পর ২১ শতাংশ উচ্চ শিক্ষায় ভর্তি হননি। যদি ঝরে পড়ার হার গত তিন বছরের মতোই থাকে, তাহলে এখান থেকে ১ লাখ ৩৬ হাজারের মতো পরীক্ষার্থী ভর্তি হবে না, সে ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় ৩ লাখ ১৭ হাজার ৬১৯ আসনের বিপরীতে ছাত্র পাওয়া যাবে না। অর্থাৎ ৪০ শতাংশের মতো আসন ফাঁকা থাকতে পারে উচ্চশিক্ষায়।
অবশ্য এবার প্রথমবারের মতো এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া শিক্ষার্থীরা ডিসেম্বরে ফের পরীক্ষায় বসতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষায় ভর্তির সম্ভাব্য হিসাবেও পরিবর্তন আসতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহবুব মোরশেদ বলেন, ‘আগে কোনো শিক্ষার্থী এক বিষয়ে অকৃতকার্য হলেও তাকে পরবর্তী বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতো। এখন ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে শুধু অকৃতকার্য বিষয়গুলোতে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। এটা ঠিক আছে। তবে আসন সংখ্যার সঙ্গে শিক্ষার্থীর সংখ্যার সামঞ্জস্য করতে গিয়ে শিক্ষার মানের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়।’
তার মতে, শ্রেণিকক্ষের ধারণক্ষমতার তুলনায় বেশি শিক্ষার্থী ভর্তি করে শিক্ষার মান কমানোর চেয়ে কমসংখ্যক শিক্ষার্থীকে মানসম্মত শিক্ষা দিয়ে এগিয়ে নেওয়া ভালো।
এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলে ১১ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এক বছরে পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।
এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন শিক্ষার্থী। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৬৯ হাজার ৯৭। অর্থাৎ, এক বছরে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন বা প্রায় ৪২ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক ফলে বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার সর্বোচ্চ ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে এ হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং মানবিক বিভাগে সর্বনিম্ন ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।
উচ্চশিক্ষায় এবার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক কম প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখোমুখি হতে হবে। সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও চিকিৎসা কলেজগুলো মিলিয়ে আসন সংখ্যা ৩০ থেকে ৩২ হাজার। বিজ্ঞানে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবার তার চেয়ে কম ২৬ হাজার ৭০২।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বাণিজ্যে আসন আছে সাড়ে ৩ হাজারের মতো। বাণিজ্যে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও এবার তার চেয়ে কম ৩ হাজার ২৬৮।
সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞানে আসন সংখ্যা আনুমানিক ১২ থেকে ১৪ হাজার। মানবিকে জিপিএ ফাইভ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা এর অর্ধেকেরও কম ৫ হাজার ৯৭৮ জন।
অবশ্য ভালো জিপিএ মানেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় সাফল্য, বিষয়টা এমনও নয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক–উভয় পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ পাওয়া আবেদনকারীদের বড় অংশও উত্তীর্ণ হতে পারেননি। ভর্তি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, বিজ্ঞান, ব্যবসায় শিক্ষা এবং কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান–এই তিন ইউনিটে দুই পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া আবেদনকারীর সংখ্যা ছিল ৪৬ হাজার ৮৬১। তাদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছেন ১২ হাজার ৯১৩ জন।


