জামায়াতে ইসলামীর আমিরের ‘আরেকটি বিপ্লবের’ বক্তব্যের সমালোচনা করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াতের রাজনৈতিক ইতিহাস বিপ্লবের নয়, বরং আত্মসমর্পণের।
তিনি বলেন, ‘জামায়াতের আমির শনিবার বলেছেন, আরেকটা বিপ্লব হবে। একটা বিপ্লব নাকি দরজায় টোকা দিচ্ছে। ভাই, আপনারা যেকোনো ইতিহাসবিদের কাছে যান অথবা সবচেয়ে বড় সাক্ষী হচ্ছে জনগণ, তাদের কাছে যান। বিপ্লবের কথা বলেন? আপনাদের রাজনীতি তো আত্মসমর্পণের ইতিহাস।’
রোববার ঢাকা আইনজীবী সমিতি ভবনে এক অনুষ্ঠানে বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।
জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১, ১৯৮৬ ও ১৯৯৫ সালের রাজনৈতিক ঘটনাগুলো জনগণের ভুলে যাওয়ার কথা নয়।
রিজভী বলেন, ‘আপনাদের ইতিহাস তো বারবার স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হওয়ার ইতিহাস। আপনারা কোনো দিন বিপ্লব করেছেন? বিপ্লবের কথা বলছেন! ’৭১ কি জনগণ ভুলে গেছে? ’৮৬ সাল কি ভুলে গেছে? ’৯৫ কি ভুলে গেছে? কী করে আপনারা স্বৈরশক্তির কাছে নতজানু হয়ে তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধে কাজ করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘আপনাদের ইতিহাস নাকে খত দেওয়ার ইতিহাস, অন্যের কাছে কৃতদাসত্বের ইতিহাস।’
বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনের কর্মসূচি ও সাত দফা দাবির প্রসঙ্গেও কথা বলেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, রাজপথের আন্দোলন বা লং মার্চের মাধ্যমে রাজনৈতিক বিরোধের সমাধান সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে আলোচনায় আসতে হবে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রিজভী বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিরোধিতা করছে না। তবে এতে বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। সেগুলো আলোচনার মাধ্যমে নিষ্পত্তি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকটি সমাধান গণতান্ত্রিক পরিবেশে, পার্লামেন্টে হবে, আলোচনার টেবিলে হবে। লং মার্চ করে হয় না।’
সংবিধান সংস্কারের দাবি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাই সনদে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব প্রস্তাব রয়েছে, সেগুলো সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। সব দল একসঙ্গে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে পারে।
বিএনপির ১৭ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের কথা তুলে ধরে রিজভী বলেন, দলের বহু নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। অনেকে হাত-পা হারিয়েছেন, কেউ কেউ পুলিশের ছোড়া গুলিতে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।
সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও স্বাস্থ্যসেবাসহ বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছেন। ইমাম-মুয়াজ্জিন এবং মন্দির ও গির্জার পুরোহিতদের ভাতার উদ্যোগও সামাজিক সুরক্ষার অংশ।
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সরকার কাজ করছে। এসব উদ্যোগের মধ্যেও দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সাম্প্রতিক আন্দোলনে পুলিশ বক্সে আগুন, পুলিশের ওপর হামলা এবং গার্মেন্টস শ্রমিকদের রাস্তায় নামানোর ঘটনা উল্লেখ করে রিজভী দাবি করেন, এসব ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী রয়েছেন।
বক্তব্যের শুরুতে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের ৩৫ বছরের পথচলার প্রশংসা করেন রিজভী। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটানা ৩৫ দিন রিমান্ডে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ২২ দিন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের কার্যালয়ে এবং ১৩ দিন মোহাম্মদপুর থানায় রাখা হয়েছিল।
সে সময় আইনজীবীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘শুধু আইনি প্রক্রিয়া দিয়ে তো শেখ হাসিনার আইন-আদালতে কোনো ফায়দা পাওয়া যায় না। বরং সম্মিলিত শক্তি সেদিন উপস্থিত থাকার কারণে আমরা মাঝে মাঝে রেহাই পেতাম।’


