ফ্যাশন ডিজাইনার সানায়া আনাম ওয়াফিকাহ চৌধুরীর আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশের অভিযোগে অভিনেত্রী তানজিন তিশাকে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নোটিশ পাওয়ার দুই দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ছবি ও লেখা সরিয়ে না নিলে তার বিরুদ্ধে মামলা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সানায়া আনামের আইনজীবী।
বুধবার সানায়া আনামের পক্ষে আইনজীবী শুভ্র সিনহা রনি এ নোটিশ পাঠান। বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘দুই দিনের মধ্যে ছবি ও ভুল তথ্য না সরানো হলে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।’
আইনি নোটিশে বলা হয়েছে, সানায়া আনাম ঢাকার সিএমএম আদালত ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তানজিন তিশার বিরুদ্ধে দুটি আলাদা মামলা করেছেন। মামলা দুটি বর্তমানে চলমান। এর মধ্যে গত মঙ্গলবার তানজিন তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ছবি ও ভুল তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে বলে নোটিশে অভিযোগ করা হয়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার সম্পর্কে ভুল তথ্য উপস্থাপনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
নোটিশে আরও দাবি করা হয়, গত বছরের ৭ নভেম্বর ফেসবুক মেসেঞ্জারে সানায়া আনামকে ভাইরাল করার হুমকি দিয়েছিলেন তানজিন তিশা। ওই বার্তায় তিনি লিখেছিলেন, ‘ফেমাস হইলে বইলো, আমি তোমার ছবি আপলোড করে দিবো নে।’ এর ধারাবাহিকতায় ফেসবুকে সানায়া আনামের ছবি প্রকাশ করে তার সম্মানহানি করা হচ্ছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তানজিন তিশার একটি পোস্টে ‘এই দুজন এক কেন? এই দুই বোনের মিলিত হয়ে ঘৃণা কেন’ এমন বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টিও নোটিশে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সানায়া আনাম ও সংশ্লিষ্ট অন্য নারী আপন বোন নন। সানায়া একজন ফ্যাশন ডিজাইনার এবং অন্যজন নারী উদ্যোক্তা। তাদের মধ্যে পরিচয় থাকলেও সেই সম্পর্ককে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করে সানায়া আনামের মানহানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নোটিশে আরও অভিযোগ করা হয়, তানজিন তিশা তার একটি পোস্টে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্কের ছবি প্রকাশ করেছেন, যার জন্য অনুমতি নেওয়া হয়নি। এ ঘটনাকে সাইবার সুরক্ষা আইনের লঙ্ঘন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
আইনি নোটিশে দুই দিনের মধ্যে তানজিন তিশার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ থেকে সানায়া আনামের সব ছবি ও সংশ্লিষ্ট লেখা সরিয়ে ফেলার দাবি জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই পেজে তার কোনো ছবি প্রকাশ না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি, মানহানির অভিযোগ এবং সাইবার ট্রাইব্যুনালসহ উপযুক্ত আদালতে আইনি প্রতিকার চাওয়া হবে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।


