বাংলাদেশিদের জন্য ভারত দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা চালু করতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। ভারত সফর শেষে দেশে ফিরে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ কথা জানান।
ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে গত ৮ এপ্রিল দিল্লি সফর করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। সেই সফরেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও তার সঙ্গে ছিলেন। সোমবার তিনি সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীকে এই ভারত সফর সম্পর্কে অবহিত করেন।
পরে সাংবাদিকদের কাছে হুমায়ুন কবির জানান, দিল্লি সফরকালে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। তাদের ভারত সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ অভিহিত করে তিনি বলেন, দুই দেশের ইতিবাচক মানসিকতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের অগ্রগতি আনবে।
হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দল দ্রুত সময়ের মধ্যে চিকিৎসা ও ব্যবসায়িক ভিসা চালুর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছে। ভারত সরকার এই প্রস্তাবটি ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে সুসংবাদ পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে বর্তমান সহযোগিতার জন্য ভারতকে ধন্যবাদ জানান হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, ভারত ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় আরও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে। তবে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা এখনও বাকি রয়েছে।
বৈঠকে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থানের বিষয়টি জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট ইস্যু হিসেবে উত্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতের মাটি ব্যবহার করে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারেন সেই অনুরোধ করা হয়েছে।
হুমায়ুন কবির জানান, বৈঠকে জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধা হাদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় তাদের বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন।
আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফরের বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে সার্ক কাঠামোর আওতায় আঞ্চলিক নেতৃত্ব শক্তিশালী করার লক্ষ্যে একটি সফরের পরিকল্পনা বিবেচনা করা হচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট না থাকলে সরকার সবসময় দুর্বল থাকে। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার জনগণের দুই-তৃতীয়াংশ ম্যান্ডেট নিয়ে গঠিত হয়েছে। আগের সরকারগুলোর তুলনায় এটি একটি বড় পার্থক্য। একারণেই বর্তমান সরকার অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে বহির্বিশ্বে কথা বলতে পারছে বলে মন্তব্য করেন হুমায়ুন কবির।


