রঙিন আলো, ক্যামেরা আর করতালির ভেতর দিয়ে কাটে চলচ্চিত্রের মানুষদের জীবন। বাইরে থেকে দেখলে মনে হয়, যশ আর খ্যাতিই যেন তাদের স্থায়ী সঙ্গী। কিন্তু সময় বদলালে ছবিটাও বদলে যায়। বয়স বাড়লে কাজ কমে, ফোন কমে, খোঁজও কমে—এমন আক্ষেপ প্রায়ই শোনা যায় সিনিয়র শিল্পীদের মুখে। সম্প্রতি সেই কথাই আবার তুলে ধরলেন অভিনেত্রী নূতন।
গত শুক্রবার চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ইফতার আয়োজনে দীর্ঘদিন পর সহকর্মীদের সঙ্গে দেখা হয় তার। পরিচিত মুখগুলো দেখে খুশি হলেও ভেতরের কষ্ট লুকোননি। কেমন আছেন—এই প্রশ্নে কিছুক্ষণ নীরব থেকে তিনি বলেন, “আমি বেঁচে থাকতেও বেঁচে নেই। কোনো অনুষ্ঠান থাকলে দাওয়াত পাই, তখনই সবাই খোঁজখবর নেয়। অনুষ্ঠান শেষ হলে আর কোনো যোগাযোগ থাকে না।”
কিছুদিন আগে স্বামী হারিয়েছেন তিনি। সেই সময়টায় পাশে কাউকে পাননি—এই আক্ষেপও জানালেন। ‘আমার স্বামী মারা গেছেন, কিন্তু কেউ ফোন করে জিজ্ঞাসা করল না কেমন আছি, কী অবস্থায় আছি। এটা অবশ্যই আমার কষ্ট,’ বলেন নূতন।
৫২ বছরের দীর্ঘ ক্যারিয়ার তার। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই প্রশ্ন তোলেন, শিল্পীদের জীবন এমন কেন হবে? ‘আমরা মারা গেলে কাগজে ছবি ছাপা হয়, লেখা হয়—উনি ভালো মানুষ ছিলেন, অমুক ছিলেন। কিন্তু জীবিত থাকতে কেন লেখা হয় না? বেঁচে থাকতে শিল্পীদের নিয়ে কেন কথা হয় না?’—প্রশ্ন ছুড়ে দেন তিনি।
গত ডিসেম্বরে মারা যান তার স্বামী, প্রযোজক ও পরিচালক রুহুল আমিন বাবুল। নূতনের দাবি, অসুস্থতার সময় এবং মৃত্যুর পর ইন্ডাস্ট্রির অধিকাংশ মানুষকে পাশে পাননি তিনি। ‘উনি তো এই ইন্ডাস্ট্রিরই মানুষ ছিলেন। অনেক সিনেমা বানিয়েছেন। কিন্তু অসুস্থ থাকাকালে কয়েকজন ছাড়া তেমন কেউ দেখতে আসেননি। জানাজাতেও ইন্ডাস্ট্রির লোকজন খুব কম ছিল। এটা আমার সবচেয়ে বড় দুঃখ।’
রুহুল আমিন বাবুল জেমস গ্রুপের চার সদস্যের একজন ছিলেন—স্মরণ করিয়ে দিয়ে নূতন বলেন, তাদের অবদান কি আমরা ভুলে গেছি? তার কথায়, ‘মানুষ বেঁচে থাকলে সবাই বন্ধু থাকে। চলে গেলে আর কাউকে পাওয়া যায় না। শিল্পী, পরিচালক, প্রযোজক—যারা ইন্ডাস্ট্রির জন্য কাজ করেছেন, তাদের জীবিত ও মৃত—দু’সময়েই সম্মান ও স্মরণ করা উচিত।’
নূতনের কথায় স্পষ্ট, তার আক্ষেপ কেবল ব্যক্তিগত নয়; এটি পুরো শিল্পাঙ্গনের প্রতি এক প্রশ্ন—স্মরণ আর সম্মান কি শুধু মৃত্যুর পরেই?


