যাত্রাশিল্পের অন্যতম পথিকৃৎ মিলন কান্তি দে আর নেই। শনিবার (৭ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার নিজ বাসভবনে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৮ বছর।
দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন মিলন কান্তি দে। চিকিৎসার জন্য কিছুদিন আগে ঢাকায় ছিলেন এবং আবার যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন। তবে গত কয়েক দিনে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। কথা বলাও বন্ধ হয়ে যায়। শনিবার সকালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে বিকেলেই তিনি নিজ বাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন।

১৯৪৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার ছনহরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মিলন কান্তি দে। ১৯৬৬ সালে যাত্রাশিল্পে তার অভিনয়জীবনের সূচনা। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে তিনি ১২০টির বেশি যাত্রা প্রযোজনা পরিচালনা করেছেন এবং ১৫১টির বেশি প্রযোজনায় অভিনয় করেছেন। ১৯৯৩ সালে তার প্রতিষ্ঠিত ‘দেশ অপেরা’ যাত্রাশিল্পে আধুনিক ভাবনার সংযোজন ঘটায়। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি যাত্রা প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেছেন। বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী যাত্রাপালাকে সংস্কার ও সময়োপযোগী করতে তার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন যাত্রাশিল্প উন্নয়ন পরিষদের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০২২ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার পান মিলন কান্তি দে। আজীবন যাত্রাশিল্পে নিবেদনের জন্য ২০২৩ সালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি তাকে যাত্রাশিল্পী সম্মাননায় ভূষিত করে।
২০২৪ সালে প্রকাশিত হয় তার আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ ‘আমি যে এক যাত্রাওয়ালা’, যেখানে যাত্রাশিল্পে তার দীর্ঘ পথচলার অভিজ্ঞতা উঠে আসে। একই বছরে বাংলা একাডেমি থেকে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার সংকলন ‘নির্বাচিত যাত্রাপালা’। মৃত্যুর আগে তার আরেকটি গ্রন্থ ‘যাত্রা শিল্পের সংক্ষিপ্ত ইতিহাস ও নন্দিত নায়িকারা’ প্রকাশের অপেক্ষায় ছিল।


