নেপালে গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বরের জেনারেশন জেড (জেন-জি) আন্দোলনে প্রত্যেক শহীদ পরিবারকে ১৫ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেবে সুশীলা কার্কির নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। নিহতদের শহীদ ঘোষণা করে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য খবর হাব ইংলিশ।
গৃহ ও আইনমন্ত্রী ওম প্রকাশ আর্যাল জানান, শুরুতে প্রতি পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। পরে আরও পাঁচ লাখ যোগ করায় প্রতিটি পরিবার ১৫ লাখ রুপি করে পাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘নিহতদের মরদেহ নিজ নিজ জেলা ও পৌরসভায় পৌঁছে দিতে হেলিকপ্টারসহ পরিবহনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করবে সরকার।’
এদিকে, নেপালে জেন-জি বিক্ষোভের মুখে প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সুশীলা কার্কি দায়িত্ব গ্রহণ করলেও দেশজুড়ে বিক্ষোভ থামেনি। বিক্ষোভকারীদে দাবি, অন্তর্বর্তী কার্কির সরকারও পুরোনো ব্যবস্থার অংশ। এ সরকার তাদের দাবি-দুর্নীতি ও বৈষম্য দূর করতে ব্যর্থ।
গত ৮ সেপ্টেম্বর থেকে নেপাল সরকার ২৬টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বার্তা আদান-প্রদান অ্যাপ বন্ধ করে দেয়, যা দেশটির জেন-জি প্রজন্মের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি করে। এরপর থেকেই দেশজুড়ে একের পর এক প্রতিবাদ এবং সহিংস বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা সরকারের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলছে, বিশেষত তারা সরকারের দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবিতে একত্রিত হয়েছে।
সহিংস এ বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। আহতের সংখ্যা দুই হাজারেরও বেশি।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সুশীলা কার্কি অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ গ্রহণের পর শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানালেও বিক্ষোভকারীরা তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। তারা নিহত ৭২ জনকে শহীদের মর্যাদা দেওয়ার নতুন দাবি তুলেছে।
এদিকে সুশীলা কার্কি প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তার সরকার জনগণের কল্যাণে নিবেদিত থাকবে এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় কাজ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, জনরোষ হ্রাসে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে। সেক্ষেত্রে নেপালের ভবিষ্যৎ পড়বে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার মুখে।


