রাজবাড়ীতে নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলার দরবারে হামলার দশ দিন পর গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদুর রহমানকে বদলি করা হয়েছে।
রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রেষণ-১ শাখার যুগ্মসচিব আবুল হায়াত মো. রফিক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তাকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর উপ পরিচালক পদে বদলি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ২১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বদলি করা কর্মস্থলে যোগদান না করলে, সেদিন বিকাল থেকে তিনি তাৎক্ষণিক অবমুক্ত হবেন।
তাকে বদলি করা হলেও ওই পদে এখনও নতুন কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত শুক্রবার এক অফিস আদেশে গোয়ালন্দ ঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলামকে রাজবাড়ী পুলিশ সুপার (এসপি) কার্যালয়ের অপরাধ শাখার পুলিশ পরিদর্শক (ক্রাইম) হিসেবে বদলি করা হয়। সেই সঙ্গে বালিয়াকান্দি থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল্লাহ আল মামুনকে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ওসি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর নাহিদুর রহমান ইউএনও হিসেবে গোয়ালন্দ উপজেলায় যোগদান করেন।
গোয়ালন্দের স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পৌরসভার পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডের নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলা বহু বছর আগে নিজ বাড়িতে গড়ে তোলেন দরবার শরীফ। আশির দশকের শেষের দিকে নিজেকে ‘ইমাম মাহদী’ দাবি করে আলোচনায় আসেন তিনি।
ওই সময়ে তার বিরুদ্ধে তীব্র জনরোষ তৈরি হয়। পরে ১৯৯৩ সালের ২৩ মার্চ জনরোষ এড়াতে তিনি মুচলেকা দিয়ে এলাকা ত্যাগ করেন। এর কিছুদিন পর তিনি আবার ফিরে এসে তার দরবার শরীফের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করেন।

গত ২৩ আগস্ট ভোরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান নুরাল পাগলা। তাকে মাটি থেকে প্রায় ১২ ফুট উঁচু স্থানে বিশেষ কায়দায় দাফন করা হয়। পবিত্র কাবা শরীফের আদলে তার কবরের রং করা হয়। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ফুঁসে ওঠেন বিক্ষুব্ধ জনতা। তাদের আন্দোলনের ফলে কবরের রং পরিবর্তন করা হয়।
তারই ধারাবাহিকতায় ৫ সেপ্টেম্বর জুমার পর গোয়ালন্দ আনসার ক্লাব মাঠে বিক্ষোভ সমাবেশ করে বিক্ষুব্ধ জনতা। বিক্ষোভ থেকে হামলা চালানো হয় নুরাল পাগলার দরবারে। পাল্টা আক্রমণ করেন নুরাল পাগলার ভক্তরা। ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ তুমুল সংঘর্ষে দুই পক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। এক পর্যায়ে নুরাল পাগলার দরবারে ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে নুরাল পাগলার মরদেহ কবর থেকে তুলে গোয়ালন্দ পদ্মার মোড়ে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ওপর নিয়ে পুড়িয়ে দেয় বিক্ষুব্ধ জনতা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলে হামলা চালানো হয় পুলিশের ওপর, ভাঙচুর করা হয় পুলিশের দুটি গাড়ি। এতে ৬ পুলিশ সদস্য আহত হন। হামলার ঘটনার সময় দুইপক্ষের শতাধিক মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী এলে তাদের ওপরেও বিক্ষুব্ধ জনতা চড়াও হওয়ার চেষ্টা করে বলে জানা গেছে।


