শাপলা চত্বর মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পেছাল

শাপলা চত্বর মামলায় অভিযোগ গঠনের শুনানি ফের পেছাল
Advertisement
Advertisement

২০১৩ সালে ঢাকার মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৪১ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

আগামী ১২ নভেম্বর শুনানির নতুন দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। রোববার ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের শুনানির জন্য ৭ অক্টোবর দিন ধার্য করা হয়। আসামিপক্ষের সময় আবেদনে সেদিন শুনানি পিছিয়ে ১ নভেম্বর নির্ধারণ করা হয়েছিল।

মামলায় গ্রেপ্তার ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, আব্দুর রাজ্জাক, দীপু মনি ও হাসানুল হক ইনু। অন্যরা হলেন সাবেক প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আব্দুল জলিল মণ্ডল, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, একাত্তর টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু ও সাংবাদিক ফারজানা রূপা।

মামলার পলাতক ৩০ আসামির মধ্যে রয়েছেন শেখ হাসিনা, মহিউদ্দিন খান আলমগীর, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মাহবুবউল আলম হানিফ, হাসান মাহমুদ চৌধুরী, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, মৃণাল কান্তি দাস, জাহাঙ্গীর কবির নানক, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া, ওমর ফারুক চৌধুরী, সালাউদ্দিন মাহমুদ ওরফে এস এম জাহিদ ও ইমরান এইচ সরকার।

তালিকার অন্যরা হলেন সাবেক আইজিপি হাসান মাহমুদ খন্দকার, মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী ও বেনজীর আহমেদ, সাবেক র‍্যাব মহাপরিচালক মো. মোখলেছুর রহমান, সাবেক বিজিবি মহাপরিচালক আজিজ আহমেদ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. মজিবুর রহমান, শেখ মুহাম্মাদ মারুফ হাসান, মাহবুব হোসেন, মো. মনিরুল ইসলাম, মো. আনোয়ার হোসেন, আশরাফুজ্জামান, এস এম মেহেদী হাসান, মোহাম্মদ হারুন-অর-রশীদ, বিপ্লব কুমার সরকার, সৈয়দ নুরুল ইসলাম, মো. আসাদুজ্জামান, এস এম শিবলী নোমান ও বিএম ফরমান আলী।

আরও পড়ুন

প্রসিকিউশনের অভিযোগ, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে গণহত্যা চালানো হয়। সংগঠনটিকে নির্মূল করার উদ্দেশ্যে তৎকালীন সরকারের পুলিশ, বিজিবি ও র‍্যাবের সদস্যদের সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেন। তদন্তে শিশু ও আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে প্রসিকিউশন।

প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করেন। অভিযানের আগে মন্ত্রী ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের এক বৈঠকে গ্রেনেড ও মারণাস্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছিল বলেও দাবি তাদের।

এ ঘটনায় প্রথমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কাছে অভিযোগ করেন হেফাজতে ইসলামের নেতা আজিজুল হক। জুনায়েদ আল হাবিব ও মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে তিনি অভিযোগটি দাখিল করেন। প্রাথমিক অভিযোগে ২১ জনের নাম থাকলেও তদন্ত শেষে ৪১ জনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয় প্রসিকিউশন। পরে ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নেন।

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম জানান, মামলার আসামি সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। কারা কর্তৃপক্ষের প্রতিবেদনে তার শারীরিক অবস্থার কারণে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়েছে। এ কারণে অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়েছে।

প্রসিকিউশন সূত্র জানায়, কোনো আসামি অসুস্থতা বা অন্য কারণে ট্রাইব্যুনালে হাজির হতে না পারলে আইনজীবীর মাধ্যমে মামলা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অনুপস্থিত থাকলে আদালত তার অনুপস্থিতিতেও আইনজীবীর উপস্থিতিতে বিচারিক কার্যক্রম চালাতে পারেন।

প্রসিকিউশনের ভাষ্য, অভিযোগ গঠনের আদেশ দেওয়ার সময় আসামির উপস্থিতি জরুরি হলেও শুনানির সময় উপস্থিতি বাধ্যতামূলক নয়।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad