জেন জি প্রজন্মকে নিঃসঙ্গ করে তুলছে ‘হোম অফিস’

জেন জি প্রজন্মকে নিঃসঙ্গ করে তুলছে ‘হোম অফিস’
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

যুক্তরাজ্যে বাসা থেকে কাজ করার (হোম অফিস) কারণে অন্যান্য বয়সের তুলনায় বেশি নিঃসঙ্গ বোধ করছে জেন জি প্রজন্ম। সামনে এই পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে বুপা ওয়েলবিইং ইনডেক্সের এক গবেষণায় উঠে এসেছে।

গবেষণার এই তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইংল্যান্ডের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাসা থেকে কাজ করার ফলে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী যেসব তরুণ-তরুণী নিঃসঙ্গ বোধ করেন, তাদের সংখ্যা ২০২৫ সালের ৪২ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৪৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

সব বয়স মিলিয়ে ২০২৬ সালের জরিপে ৩৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন বাসা থেকে কাজ করার কারণে তাদের নিঃসঙ্গ লাগে, যা আগের বছরের ৩৫ শতাংশের তুলনায় সামান্য কম। এর মধ্যে ৪৫ থেকে ৫৪ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৮ শতাংশ। এছাড়া ৫৫ বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে মাত্র ১৮ শতাংশ মানুষ মনে করেন বাসা থেকে কাজ করার কারণে তাদের নিঃসঙ্গ লাগে।

বুপা ইনডেক্সে আরও দেখা গেছে, সাধারণ মানুষের তুলনায় ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী তরুণ-তরুণীরা কর্মক্ষেত্রে মানসিক সমস্যার শিকার বেশি হন। প্রায় ৪১ শতাংশ তরুণ জানিয়েছেন গত ১২ মাসে মানসিক স্বাস্থ্য তাদের কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে, যেখানে সব বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ছিল ২৯ শতাংশ।

এছাড়া প্রায় ৮৭ শতাংশ তরুণ কর্মী বলেছেন তারা মানসিক সমস্যা নিয়েই কর্মস্থলে যান, যা সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে ৭০ শতাংশ।

আরও পড়ুন

গত ১২ মাসে তরুণ কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেওয়ার পেছনেও একটি বড় কারণ ছিল মানসিক স্বাস্থ্য। ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩৫ শতাংশ বলেছেন এটি তাদের ওপর প্রভাব ফেলেছে, যেখানে সব বয়সীদের ক্ষেত্রে এই হার ২৪ শতাংশ।

যুক্তরাজ্যের জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী সামগ্রিকভাবে তরুণদের মধ্যে একাকীত্ব বেশি দেখা যাওয়ার পরই এই প্রতিবেদন সামনে এল। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ২৯ বছর বয়সী তরুণদের মধ্যে প্রায় ৩৪ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তারা সবসময় বা প্রায়শই নিঃসঙ্গ বোধ করেন। এর বিপরীতে, সব বয়সের মানুষের ক্ষেত্রে এই হার ২৫ শতাংশ এবং ৫০ থেকে ৬৯ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে তা ২২ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল তরুণদের চাকরিতে সাহায্য করার বিষয় নয়, বরং এমন কর্মক্ষেত্র তৈরি করা দরকার যেখানে তারা একে অপরের সাথে যুক্ত ও সবার সমর্থন পাচ্ছে এমন বোধ করতে পারে। যদিও দূর থেকে ও নমনীয় কাজ অনেক সুবিধা দেয়, তবুও পারস্পরিক যোগাযোগ এবং মানসিক সুস্থতাকে সবার আগে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। মানসিকভাবে স্বাস্থ্যকর কর্মক্ষেত্র তৈরি করা সবার যৌথ দায়িত্ব এবং কর্মীরা যাতে কোনো ভয় ছাড়াই নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করতে পারেন, তেমন পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে নিয়োগকর্তারা বড় পরিবর্তন আনতে পারেন।

‘ম্যানেজারদের কর্মপদ্ধতি আপডেট করা উচিত’

বুপা প্রতিবেদনে কাজ ও একাকীত্বের ওপর ৫ হাজার ২৬২ জন মানুষের মতামত নেওয়া হয়। ইনস্টিটিউশন অব অকুপেশনাল সেফটি অ্যান্ড হেলথ-এর সদ্য সাবেক সভাপতি কেলি নিকোল বলেন, সময়ের সাথে বদলাতে থাকা বহুমুখী কর্মীবাহিনীর চাহিদা পূরণে ম্যানেজারদের তাদের কাজের ধরন বদলানো দরকার।

তিনি আরও জানান, তাদের নিজস্ব গবেষণায় দেখা গেছে ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের প্রায় অর্ধেকই মনে করেন বাসা থেকে কাজ করা এবং হাইব্রিড ব্যবস্থার কারণে সহকর্মী ও বসদের সাথে ভালো সম্পর্ক তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দুই-পঞ্চমাংশের বেশি মানুষ আশঙ্কা করছেন সামনা-সামনি যোগাযোগের ঘাটতি তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত বিকাশ আটকে দিচ্ছে এবং এক-তৃতীয়াংশ মানুষ কাজের উৎসাহ হারিয়ে ফেলছেন। তাই তরুণ ও হাইব্রিড কর্মীদের জন্য ম্যানেজারদের আরও সুনির্দিষ্ট তত্ত্বাবধান এবং নিয়মিত খোঁজখবর নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad