এইচএসসি ফলাফল/ পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোতেই এগিয়ে রাজশাহী

পাসের হার ও জিপিএ-৫ দুটোতেই এগিয়ে রাজশাহী
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের আট জেলার মধ্যে এইচএসসি পরীক্ষার পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তি, দুই সূচকেই শীর্ষে রয়েছে রাজশাহী জেলা। বোর্ডে মোট জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর প্রায় ৪০ শতাংশই এ জেলার। তবে জেলার সাফল্যের বিপরীতে বোর্ডের সামগ্রিক ফলে হতাশার চিত্র দেখা গেছে।

এ বছর পাসের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে। জিপিএ-৫ পাওয়ার দিক থেকে ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে মেয়েরা।

শনিবার বেলা ১১টায় রাজশাহী মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন আনুষ্ঠানিকভাবে ফল প্রকাশ করেন।

বোর্ডের ফল অনুযায়ী, এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪ হাজার ৫২০ জন শিক্ষার্থী। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার ১ হাজার ৭৮৫ জন। বোর্ডের মোট জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর প্রায় ৩৯ দশমিক ৫ শতাংশ এ জেলার। এ তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে বগুড়া। এ জেলার ১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে। ৫৫০ জন নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে পাবনা।

পাসের হারেও আট জেলার মধ্যে শীর্ষে রাজশাহী। এ জেলায় পাসের হার ৫৫ দশমিক ৩৩ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা বগুড়ায় পাসের হার ৫৩ দশমিক ৬৪ শতাংশ। তৃতীয় অবস্থানে থাকা জয়পুরহাটে এ হার ৪১ দশমিক ৬৭ শতাংশ।

আরও পড়ুন

এ বছর রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিল ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৩৬ জন শিক্ষার্থী। পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩৭ হাজার ৩৫৬ জন। পাস করেছে ৬১ হাজার ৮৯৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৭৫ হাজার ৪৬২ জন।

রাজশাহী জেলায় পরীক্ষায় অংশ নেয় ২৮ হাজার ৮৬ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ১৫ হাজার ৫৪০ জন। বোর্ডের আট জেলার ৭৪৩টি কলেজের শিক্ষার্থীরা ২০৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেয়।

লিঙ্গভিত্তিক ফলাফলে ছেলেদের পাসের হার ৩৭ দশমিক ৭১ শতাংশ। মেয়েদের পাসের হার ৫৩ দশমিক ০৩ শতাংশ। বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়া ৪ হাজার ৫২০ জনের মধ্যে ছেলে ১ হাজার ৯৬৫ জন, মেয়ে ২ হাজার ৫৫৫ জন।

পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন জানান, পরীক্ষা চলাকালে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৩১ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ বছর বোর্ডের আট জেলার মাত্র ৯টি কলেজের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। অন্যদিকে ৩৯টি কলেজের কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি।

বোর্ডের গত কয়েক বছরের ফল পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২১ সালে পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ২৯ শতাংশ। ২০২২ সালে তা কমে দাঁড়ায় ৮১ দশমিক ৬০ শতাংশে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮১ দশমিক ২৪ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে ৫৯ দশমিক ৪০ শতাংশ। এবার তা আরও কমে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশে নেমেছে। করোনা মহামারির কারণে ২০২০ সালে অটোপাসের পর এবারই বোর্ডে পাসের হার সর্বনিম্ন।

ফলাফল সম্পর্কে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ইফফাত জেরীন বলেন, ‘শিক্ষার্থীরা খাতায় যেমন লিখেছে, সেভাবেই নম্বর পেয়েছে। কাউকে বাড়তি নম্বর দেওয়া হয়নি। তাই সামগ্রিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।’

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad