কানাডায় নীতিগত সুদের হার বাড়িয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ২৮ অক্টোবর সুদের হার শূণ্য দশমিক ২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ২ দশমিক ৫০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের জুলাইয়ের পর এই প্রথম সুদের হার বাড়াল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি মোকাবিলায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ব্যাংক অব কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দেশটির বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতির হার বেড়ে ৩ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়ায়, যা আগস্টে ছিল ৩ শতাংশ। জ্বালানির উচ্চমূল্য পরিবহন ও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করছে।
সুদের হার বৃদ্ধির ফলে পরিবর্তনশীল সুদের বন্ধকী ঋণ, ব্যক্তিগত ঋণ ও ব্যবসায়িক ঋণের খরচ বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব পরিবার বাড়ির ঋণ, গাড়ির কিস্তি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তাদের আর্থিক চাপ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে নির্দিষ্ট মেয়াদের স্থির সুদের ঋণে তাৎক্ষণিক প্রভাব নাও পড়তে পারে।
অন্যদিকে, জ্বালানির উচ্চমূল্যের কারণে খাদ্যপণ্য ও পরিবহন ব্যয়ের চাপও অব্যাহত রয়েছে। ফলে মধ্যবিত্ত ও সীমিত আয়ের পরিবারগুলোকে সংসারের বাজেট সামলাতে আরও সতর্ক থাকতে হতে পারে।
ব্যাংক অব কানাডার দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য মুদ্রাস্ফীতির হার ২ শতাংশে নামিয়ে আনা। সুদের হার বাড়িয়ে ঋণ ও ব্যয়ের প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে চায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এর প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে সময় লাগতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী, পরবর্তী সুদের হার ঘোষণার তারিখ ৯ ডিসেম্বর। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির দাম ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
অন্যদিকে কানাডায় এরই মধ্যে জীবনযাত্রার ব্যয় অনেক পরিবারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাড়িভাড়া, বাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, পরিবহন, বিমা, খাদ্যপণ্য ও জ্বালানির ব্যয় সামলাতে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোকে বাজেটের হিসাব আরও সতর্কভাবে করতে হচ্ছে।
স্ট্যাটিস্টিকস কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে দোকান থেকে কেনা খাদ্যপণ্যের দাম আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। যদিও খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির গতি আগের মাসের তুলনায় কমেছে, ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এসব পণ্যের সামগ্রিক মূল্যস্তর ৩৩ শতাংশ বেশি।
অর্থাৎ, খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির হার কমে যাওয়া মানেই পণ্যের দাম আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়া নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বেশি দাম দিয়েই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে হচ্ছে।
এর সঙ্গে ঋণের সুদ বাড়লে পরিবারের হাতে অন্যান্য খরচের জন্য অবশিষ্ট অর্থ কমে যেতে পারে। বিশেষ করে সীমিত আয়ের পরিবার, নতুন অভিবাসী, শিক্ষার্থী এবং সদ্য বাড়ি কেনা পরিবারগুলো তুলনামূলক বেশি চাপে পড়তে পারে। তবে প্রত্যেক পরিবারের ওপর প্রভাব নির্ভর করবে তাদের আয়, ঋণের পরিমাণ ও সুদের ধরন অনুযায়ী।


