ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে ধর্মঘটে নেমেছেন বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকরা। এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা দুর্ভোগে পড়েছেন।
তবে ঢামেক কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, হাসপাতাল প্রাঙ্গণে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স স্থায়ীভাবে পার্কিং করার কোনো সুযোগ নেই।
বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির ঢাকা মেডিকেল শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী জানান, দীর্ঘদিন ধরে তারা হাসপাতাল চত্বরে অ্যাম্বুলেন্স রেখেই রোগীদের সেবা দিয়ে আসছেন। কিন্তু চত্বরে পার্কিং বন্ধ করে দেওয়ায় এবং বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না থাকায় অ্যাম্বুলেন্সগুলো বাধ্য হয়ে আশপাশের সড়কে রাখতে হচ্ছে।
এতে সড়কে তীব্র যানজট তৈরির পাশাপাশি চালক ও মালিকদের পুলিশি মামলার মুখে পড়তে হচ্ছে। পূর্বের মতো চত্বরে পার্কিংয়ের সুযোগ না পাওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম ফরহাদ হোসেন হাসপাতালের এ সিদ্ধান্তের পক্ষে শক্ত অবস্থান ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের তীব্র জায়গা সংকট রয়েছে। এর মধ্যে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স পার্কিংয়ের জায়গা দেওয়া সম্ভব নয়। রোগীদের জিম্মি করে ধর্মঘট করা বা বেআইনিভাবে সড়কে অ্যাম্বুলেন্স রাখা হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।’
পরিচালক আরও জানান, জরুরি বিভাগের সামনের জট কমানো, রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি নিরসন এবং প্রাঙ্গণে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
একই উদ্দেশ্যে জরুরি বিভাগের সামনে আগে সমিতিকে অস্থায়ীভাবে দেওয়া একটি কক্ষও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সেখানে দেশের দূর-দূরান্ত থেকে আসা অসহায় রোগী ও স্বজনদের বসার ব্যবস্থা করা হবে, যেন তাদের বাইরে ঘোরাঘুরি করে প্রতারিত হতে না হয়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী, অ্যাম্বুলেন্স এসে রোগী নামিয়ে চলে যাবে এবং নতুন রোগী পাওয়ার পর এসে তুলে নিয়ে যাবে; তবে স্থায়ীভাবে অবস্থান করতে পারবে না।
এর আগে, গত সোমবার সকালে ‘হাসপাতালের বাগান গেটের ভেতরের একটি অংশ স্থায়ী পার্কিং হিসেবে বরাদ্দ দেওয়া’ এবং ‘নির্দিষ্ট ভাড়া নির্ধারণ’সহ বিভিন্ন দাবিতে মানববন্ধন করেছিল সংগঠনটি।


