টঙ্গীর রেশ না কাটতেই গাছায় মাদ্রাসায় শিশু ‘বলাৎকার’

টঙ্গীর রেশ না কাটতেই গাছায় মাদ্রাসায় শিশু ‘বলাৎকার’
গাজীপুরের ম্যাপ
Advertisement
Advertisement

গাজীপুরের টঙ্গীতে কওমি মাদ্রাসার শিক্ষক কর্তৃক ছয় বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে চুমু দেওয়া ও শিশুর বাবার থাপ্পড় মারার ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে। এর মধ্যেই জেলার গাছা এলাকার আরেকটি কওমি মাদ্রাসায় আট বছরের এক ছেলেশিশুকে একাধিকবার বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শিক্ষকসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পুলিশ দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। বৃহস্পতিবার তাদের গ্রেপ্তার করে শুক্রবার আদালতে পাঠানো হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী শিশুটি কলমেশ্বর এলাকার ডেঙ্গুর আলী সড়কের ‘দারুল হেদায়া কওমি মাদ্রাসা’র আবাসিক বিভাগে থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে পড়াশোনা করত।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকালে শিশুটিকে মাদ্রাসায় রেখে আসেন তার মা। ১৩ অক্টোবর দুপুরে শিশুটি বাসায় খেতে আসে। গোসল করানোর সময় শরীরের একটি অংশে প্রচণ্ড ব্যথার কথা জানায় সে। কারণ জানতে চাইলে বলাৎকারের বিষয়টি সে মাকে খুলে বলে।

এজাহারে বলা হয়, ১০ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১টার দিকে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঘুমিয়ে ছিল শিশুটি। শিক্ষক মো. অলিউল্লাহ ইসলাম তাকে ডেকে তুলে ভয়ভীতি দেখিয়ে মাদ্রাসার স্টোররুমে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বলাৎকার করা হয়। পরবর্তী দুই রাতেও তাকে একইভাবে বলাৎকার করা হয়। বিষয়টি কাউকে জানালে মারধরের হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

শিশুটির মা জানান, ঘটনা জেনে তিনি মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কাছে যান। তবে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে কৌশলে অভিযুক্তকে মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষক অলিউল্লাহ ছাড়া অন্য দুই আসামি হলেন মোহাম্মদ মিজান ও মো. আব্দুল কুদ্দুস শেখ।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, একই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ওই মাদ্রাসার ১০ বছর বয়সী আরেক শিশুও বলাৎকারের অভিযোগ এনেছে। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে এমন ঘটনা ঘটেছে বলে জানতে পেরেছেন মামলার বাদী। নির্যাতিত শিশুটিকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়েছে।

গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রব্বানী জানান, পুলিশ তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন জমা দেবে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad