দুর্গাপূজার প্রস্তুতি: ফেনীতে বেড়েছে মণ্ডপ, ৩ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা

দুর্গাপূজার প্রস্তুতি: ফেনীতে বেড়েছে মণ্ডপ, ৩ স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা, মাঠে মাঠে কাশফুলের দোলা-প্রকৃতিতে এখন শারদীয় দুর্গোৎসবের আবহ। দেবী দুর্গাকে বরণ করে নিতে ফেনীতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। মণ্ডপে মণ্ডপে প্রতিমা তৈরির কাজ প্রায় শেষ। কোথাও চলছে রং ও সাজসজ্জা, কোথাও শেষ মুহূর্তের কারুকাজ। প্রতিমা শিল্পীদের ব্যস্ততা বেড়েছে কয়েক গুণ। উৎসবকে ঘিরে পূজামণ্ডপের সংখ্যা বেড়েছে ফেনী জেলায়ও।

এ বছর ফেনী জেলায় ১৫৩টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪৯টি। দুর্গোৎসব নির্বিঘ্ন করতে পুলিশ, আনসারসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে প্রশাসন। পাশাপাশি বাড়ানো হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি। সার্বিক প্রস্তুতিতে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। তাদের প্রত্যাশা, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে এবারের দুর্গোৎসব।

ফেনী শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকার পূজামণ্ডপ ঘুরে দেখা গেছে, দেবী দুর্গা ও তার পরিবারের প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ পর্যায়ে। দুর্গার পাশাপাশি তৈরি করা হচ্ছে দেবী লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকের প্রতিমা। মাটির কাজ শেষে প্রতিমায় রং, অলংকরণ ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন শিল্পীরা।

ছবি: টাইমস

প্রতিমা কারিগরদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিটি প্রতিমায় নিখুঁত কারুকাজ ও আকর্ষণীয় সাজসজ্জা ফুটিয়ে তুলতে বাড়তি সময় দিতে হচ্ছে তাদের। পূজার সময় ঘনিয়ে আসায় কাজের চাপও বেড়েছে। তবে দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা ও নিষ্ঠা দিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করতে পারবেন বলে আশাবাদী তারা।

প্রতিমা কারিগর রাজিব বলেন, ‘দুর্গাপূজা সামনে রেখে এখন আমাদের ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি। প্রতিমার মূল কাজ প্রায় শেষ। এখন রং ও সাজসজ্জার কাজ চলছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব কাজ শেষ করতে হবে। তাই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছি।’

আরও পড়ুন

দুর্গোৎসব ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা পুলিশ। পূজামণ্ডপের নিরাপত্তায় পুলিশ, র‌্যাব ও আনসার সদস্যদের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপ ও জনসমাগমপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজর রাখা হবে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, ‘শারদীয় দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। পূজামণ্ডপগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হচ্ছে। অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে দায়িত্ব পালন করা হবে। জেলার সুশীল সমাজ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করে সুন্দর পরিবেশে দুর্গোৎসব সম্পন্ন করতে আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরও বলেন, যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পূজা উদযাপন কমিটিগুলোকে সতর্ক থাকতে হবে। মণ্ডপে সিসি ক্যামেরা সচল রাখা, পর্যাপ্ত স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং সন্দেহজনক কোনো কিছু নজরে এলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উৎসব ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা। তাদের মতে, প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখে কাজ করা গেলে নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপন সম্ভব।

ফেনী জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট সমীর কর বলেন, ‘দুর্গাপূজা আমাদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। আমরা চাই, সবাই মিলে আনন্দমুখর পরিবেশে পূজা উদযাপন করতে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তার বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত পূজা নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো শঙ্কা নেই। সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা ও সবার আন্তরিকতায় এবারের দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশাবাদী।’

১০ অক্টোবর মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। আগামী ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের আয়োজন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad