রাজধানীর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে ছিনতাইয়ের সময় স্কুলের প্রধান শিক্ষক রনজিলা পারভীন (৫৬) নিহতের ঘটনায় করা মামলার প্রধান আসামি মো. পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজীসহ তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ডে যাওয়া অপর দুই আসামি হলেন সেড্রিক জুলিয়ান (২৮) ও রাকিব হোসেন (২৪)।
পুলিশ বলছে, রনজিলা পারভীনকে ছিনতাইয়ের সময় মোটরসাইকেল থেকে টেনে ফেলে দেওয়ার ঘটনায় আসামিদের ভূমিকা, ছিনতাইয়ের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার পেছনে থাকা পুরো চক্র সম্পর্কে জানতে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ জন্য তাদের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হয়।
আদালত শুনানি শেষে তিন আসামির প্রত্যেকের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত রনজিলা পারভীন বগুড়ার বাগবাড়ী বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। তিনি চোখের চিকিৎসার জন্য স্বামী মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে ঢাকায় আসছিলেন।
গত ২৯ আগস্ট ভোর আনুমানিক ৫টা ৫৫ মিনিটে তারা রিকশাযোগে শেরেবাংলা নগর থানাধীন মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্তে জাতীয় সংসদ ভবনের ১২ নম্বর গেটের পর খেজুর বাগানের দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে দুই ছিনতাইকারী এসে রনজিলা পারভীনের হাতে থাকা ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য টান দেয়।
ছিনতাইকারীদের টানে রনজিলা রিকশা থেকে পাকা সড়কে পড়ে যান। এতে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। ছিনতাইকারীরা ব্যাগটি নিয়ে পালিয়ে যায়।
এজাহারে বলা হয়েছে, ব্যাগে একটি বাটন মোবাইল ফোন, একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, নগদ ১০ হাজার টাকা, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ছিল। দুটি মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য যথাক্রমে ২ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা।
পরে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আহত রনজিলা পারভীনকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনার পর আসামিদের গ্রেপ্তার এবং মামলার আলামত উদ্ধারে র্যাব-২-এর সহায়তা নেওয়া হয়। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৩০ আগস্ট পনি ওরফে প্যারা পনি ওরফে পনি গাজী ও সেড্রিক জুলিয়ানকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পরে তেজগাঁও থানাধীন একটি বাসার গ্যারেজ থেকে মামলার ঘটনায় ব্যবহৃত একটি নীল রঙের ইয়ামাহা আর১৫ মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। পুলিশ প্রতিবেদনে মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বরও উল্লেখ করা হয়েছে।
পনির বিরুদ্ধে একাধিক মামলা
আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে প্রধান আসামি পনির বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা থাকার তথ্যও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব মামলার মধ্যে চুরি, চুরির প্রস্তুতি, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনসহ বিভিন্ন ধারায় করা মামলা রয়েছে।
অন্যদিকে, মামলার তৃতীয় আসামি রাকিব হোসেনের বিরুদ্ধেও থানায় একাধিক জিডি ও মামলার তথ্য পুলিশের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


