হিমবাহধসে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহকারী দেশি-বিদেশি গণমাধ্যমের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে নেপাল সরকার।
দেশটির তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা তথ্য প্রশাসন বিভাগ ও সংবাদ শাখার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ‘ভোতেকোশি নদীর বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ প্রচার করতে হলে বিদেশি সংবাদদাতাদের এখন থেকে পাসপোর্টের কপি, বৈধ ভিসা এবং সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমের নিয়োগপত্র বা চুক্তিপত্র জমা দিতে হবে।’
তথ্য বিভাগের মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পাণ্ডে জানিয়েছেন, এটি দুর্যোগকালীন কোনো নতুন নীতি বা নতুন ব্যবস্থা নয়, বরং সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরেই বিভাগটির নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ।
তিনি বলেন, ‘মুদ্রিত ও সম্প্রচার মাধ্যম পরিচালনার নিয়ম ও প্রক্রিয়ার আওতায় স্থানীয় সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিদেশি সাংবাদিকদের জন্যও একই ব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু রয়েছে। সেই ব্যবস্থাই আবার মনে করিয়ে দেওয়া হচ্ছে।’
কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়, গত বুধবার ভোরে তিব্বতের হিমালয় থেকে হিমবাহধসে ভোতেকোশি নদীতে নজিরবিহীন বন্যার পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের অনেক বিদেশি সংবাদদাতা দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে পৌঁছেছেন।
বর্তমান দুর্যোগ পরিস্থিতিতে সংবাদ সংগ্রহের কাজকে আরও সুশৃঙ্খল করার লক্ষ্যে তথ্য বিভাগ বিদেশি সাংবাদিকদের তাদের গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র এবং সংশ্লিষ্ট দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অথবা নেপালে অবস্থিত ওই দেশের দূতাবাস বা কনস্যুলার কার্যালয়ের সুপারিশপত্র জমা দিতে বলেছে।
এক সরকারি কর্মকর্তা বলেন, ‘এটি কোনো স্থায়ী নিয়ম নয়। দুর্যোগে সাংবাদিকদের নিরাপদ রাখতে কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
আরও পড়ুন: নেপাল ট্র্যাজেডি: মৃতের সংখ্যা ৬০০ ছাড়াল, নিখোঁজ প্রায় ২ হাজার
বিদেশি সংবাদদাতাদের নিজেদের প্রতিষ্ঠানের দেওয়া পরিচয়পত্র এবং বেতন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার তথ্যও একইসঙ্গে জমা দিতে হবে। এসব কাগজপত্র জমা দেওয়ার পর অনলাইনে নেপাল সরকারের দেওয়া পরিচয়পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে।
তথ্য বিভাগ জানিয়েছে, অনলাইন আবেদন অনুমোদিত হওয়ার পর আবেদনকারীকে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি সঙ্গে নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে বিভাগে উপস্থিত হতে হবে। এরপর সংবাদ প্রতিনিধি সনদ ও সাংবাদিক পরিচয়পত্র সংগ্রহ করতে হবে।
তথ্য বিভাগের মুখপাত্র গোবিন্দ প্রসাদ পাণ্ডে বলেন, ‘বিদেশ থেকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য নেপালে আসা সাংবাদিকদের যেন অপেক্ষা করতে না হয় বা কোনো ধরনের অসুবিধায় পড়তে না হয়, সে জন্য সরকারি ছুটির দিনেও কার্যালয় খোলা থাকবে এবং সেবা দেওয়া হবে।’
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, যেসব বিদেশি সাংবাদিক এরইমধ্যে নেপালে পৌঁছেছেন কিন্তু সংবাদ পরিচয়পত্র সংগ্রহ করেননি, তাদের প্রতিবেদন তৈরির আগে সেটি নিতে হবে।
পাণ্ডে বলেন, ‘কেউ যদি সংবাদ পরিচয়পত্র ছাড়া প্রতিবেদন তৈরি করেন, তাহলে সেটি আইনগতভাবে বৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে না এবং প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে বলে ধরা হবে না।’
তথ্য বিভাগের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংবাদ প্রতিনিধি সনদ বা সাংবাদিক পরিচয়পত্রের জন্য আবেদনকারী নেপালি নাগরিকদেরও বিভাগের ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইনে আবেদন করতে হবে।
নেপালি সাংবাদিকদের সংবাদ প্রতিনিধি সনদ পাওয়ার জন্য নাগরিকত্ব সনদের কপি, গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের দেওয়া নিয়োগপত্র এবং ওই প্রতিষ্ঠানের সুপারিশপত্র জমা দিতে হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন নবায়ন বা হালনাগাদের প্রমাণপত্র, অঙ্গীকারনামা এবং বেতন ও নিয়মিত ভাতা পাওয়ার প্রমাণসহ সত্যায়িত ব্যাংক তথ্য জমা দিতে হবে।
যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দেশে কর্মরত বিদেশি সাংবাদিকদের তথ্য সংরক্ষণ ও তাদের কার্যক্রমের হিসাব রাখার উদ্দেশ্যেই এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।
এদিকে নেপাল-চীন সীমান্তে বুধবার আঘাত হানা বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬–এ পৌঁছেছে। এখনো প্রায় দুই হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। শনিবার চতুর্থ দিনের মতো চলছে উদ্ধার অভিযান।


