মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিটে বড় ধরনের মজুত গরমিলের তথ্য পাওয়া গেছে। হিসাবের তুলনায় গুদামে ১০০ টন চাল ও ২০ টন গম কম পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ৪১ টন ধান অতিরিক্ত এবং প্রায় সাড়ে ৬ হাজার বস্তার হিসাবেও গরমিল শনাক্ত হয়েছে।
এ ঘটনায় ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও ওসিএলএসডি (উপজেলা খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা) বিপুল কুমার দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
বৃহস্পতিবার খাদ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (সংস্থাপন) অনির্বাণ ভদ্র স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে তাদের সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলার কার্যক্রম শুরুর প্রক্রিয়াও চলছে বলে জানা গেছে।
খাদ্য অধিদপ্তর সূত্র জানায়, অধিদপ্তরের ২৫ আগস্টের স্মারকের ভিত্তিতে গঠিত একটি কমিটি ঘিওর উপজেলা খাদ্যগুদাম সরেজমিনে পরিদর্শন করে। এ সময় গুদামের খাতাপত্রে উল্লেখ করা মজুতের সঙ্গে বাস্তবে থাকা চাল, গম ও ধানের পরিমাণ মিলিয়ে দেখা হয়। হিসাবের সঙ্গে বাস্তব মজুতের বড় ধরনের অসঙ্গতি তখনই ধরা পড়ে।
মজুত যাচাই শেষে কমিটি বিষয়টি খাদ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন বিভাগকে জানায়। পরে অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
খাদ্য অধিদপ্তরের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং বিভাগীয় কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার স্বার্থে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর বিধি ১২ অনুযায়ী ফারহানা আক্তার ও বিপুল কুমার দাসকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার দুপুরে খাদ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ও মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ঘিওর খাদ্যগুদাম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের পর গুদামটি সাময়িকভাবে সিলগালা করা হয়।
ঘিওর খাদ্যগুদামের মজুত নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে নিয়মিত প্রতিবেদনের তথ্য ঘিরে। কারণ, সর্বশেষ গত ১৫ আগস্টের পাক্ষিক প্রতিবেদনে গুদামের মজুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক দেখানো হয়েছিল। অথচ মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে ২৫ আগস্টের পর সরেজমিন যাচাইয়ে ১২০ টন চাল-গমের ঘাটতিসহ আরও বেশ কিছু গরমিলের তথ্য পাওয়া গেছে।
মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. আইয়ুব রায়হান বলেন, ‘মহাপরিচালকের সরাসরি তত্ত্বাবধানে জেলার প্রতিটি খাদ্যগুদামে বিশেষ অডিট পরিচালনা করা হচ্ছে। এই অডিটের অংশ হিসেবে ঘিওরের খাদ্যগুদামে গরমিল পাওয়া যায়। এর সঙ্গে যারা জড়িত থাকতে পারেন, তদন্তের স্বার্থে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খাদ্যগুদামটি সিলগালা করা হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি মাসে দুইবার পাক্ষিক প্রতিবেদন দেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক। সর্বশেষ গত ১৫ আগস্ট তার কাছে যে প্রতিবেদন এসেছিল, সেখানে সবকিছু ঠিকঠাক ছিল।’
ঘিওর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ফারহানা আক্তার ও ওসিএলএসডি বিপুল কুমার দাসের বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


