যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা যুদ্ধের ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ইরানের সামনে হাজির হয়েছে নতুন সংকট-আরও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ। একদিকে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা অন্যদিকে আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার হুমকি অনেকটাই কোণঠাসা করছে ইরানের সাধারণ জনগণকে।
তেহরানের ব্যস্ত রাস্তাগুলোতেও এখন আর শুধু যুদ্ধের আতঙ্ক নয়, ছড়িয়ে পড়ছে নতুন এক অনিশ্চয়তা- অর্থনৈতিক অবরোধের ভয়। দোকানি থেকে কারখানার শ্রমিক, মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে ব্যবসায়ী- অনেকেই হিসাব কষছেন, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ধাক্কা তাদের দৈনন্দিন জীবনে কতটা প্রভাব ফেলবে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের পর বছর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপ, মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়নে ক্ষতবিক্ষত ইরানের অর্থনীতি এবার আরও কঠিন পরীক্ষার মুখে পড়তে যাচ্ছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধের জেরে তেহরানকে বৈশ্বিক অর্থনীতি থেকে আরও বিচ্ছিন্ন করতে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে ওয়াশিংটন। একই সঙ্গে বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে ইরানের সঙ্গে আর্থিক সম্পর্ক বজায় রাখলে প্রতিশোধমূলক মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেছেন, ইরানের আর্থিক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।
ইরানের মানুষের কাছে এটি শুধু আরেকটি কূটনৈতিক সংঘাত নয়, বরং বাজার, চাকরি ও ভবিষ্যৎ সঞ্চয়ের ওপর নতুন চাপের আশঙ্কা। কারণ দেশটির অর্থনীতি দীর্ঘদিন ধরে তেল রপ্তানি, বৈদেশিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাধার সঙ্গে লড়াই করে আসছে।
কাজেই ইরানি জনগণের কাছে নিষেধাজ্ঞা নতুন কোনো অভিজ্ঞতা নয়। কয়েক দশক ধরে চলা নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও দেশটি টিকে আছে। কারণ মিত্রদেশগুলো তাদের থেকে মুখ ফেরায়নি। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইতিবাচক কূটনীতি চালিয়ে যাওয়া ভারত, জাপান, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ অনেক দেশও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে আসছে।
তবে এবার প্রশ্ন উঠছে- বিশ্ব অর্থনীতির সঙ্গে ইরানের যে সীমিত সংযোগ এখনো টিকে আছে, সেটি যদি আরও সংকুচিত হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এর চাপ কতটা বাড়বে? কারণ নিষেধাজ্ঞার লড়াই শুধু সরকার ও কূটনীতির টেবিলে হয় না। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে বাজারে, মুদ্রার দামে, আমদানি পণ্যের দামে এবং সাধারণ মানুষের ঘরের বাজেটে।









