সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতায় ডুবে যাচ্ছে জামালপুর পৌরসভার বিস্তীর্ণ এলাকা। বছরের পর বছর ধরে চলা এ সমস্যায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারও মানুষ। দ্রুত স্থায়ী সমাধানের দাবিতে গত বৃহস্পতিবার শহরের গেইটপাড় এলাকায় তিন ঘণ্টা রেলপথ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কার্যকর সমাধান মেলেনি।
পৌরসভার চন্দ্রা, হাটচন্দ্রা, মনিরাজপুর, পৌর কবরস্থান, বিজিবি ক্যাম্পসংলগ্ন সড়ক, শেখেরভিটা, গেইটপাড়, ফকিরপাড়া ও বিসিকের পেছনের এলাকায় অল্প বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় বছরের দীর্ঘ সময় পানিবন্দি থাকতে হয় বাসিন্দাদের।
এতে শিক্ষা, ব্যবসা, যাতায়াত ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ঘরে পানি ঢুকে পড়ায় অনেক পরিবার আসবাবপত্র ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র রক্ষায় অতিরিক্ত ভোগান্তির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সড়কে পানি জমে থাকায় শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী ও রোগীদের চলাচল সবচেয়ে বেশি বিঘ্নিত হয়। অনেক সময় শিশুদের বিদ্যালয়ে যেতে এবং জরুরি রোগীদের হাসপাতালে নিতে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়ে যায় এবং ডেঙ্গুসহ পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়।
চন্দ্রা এলাকার বাসিন্দা মাইশা বিনতে মাজেদ বলেন, ‘ভারী বৃষ্টির প্রয়োজন হয় না, সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরবাড়িতে পানি উঠে যায়। বছরের বেশির ভাগ সময় পানিবন্দি থাকায় এলাকায় বিভিন্ন রোগবালাই দেখা দেয়। সেই সঙ্গে সাপের আতঙ্কও নিয়মিত ভোগায়।’

জলাবদ্ধতার কারণে দুর্ভোগে পড়েছেন স্বজন হারানো মানুষও। জামালপুর পৌর কবরস্থানে বাবার কবর জিয়ারত করতে আসা রিফাত মোল্লা বলেন, ‘পানি জমে থাকায় কবরের কাছে যাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর দাঁড়িয়েই দোয়া পড়তে হয়। বৃষ্টি হলেই শত শত কবর পানিতে তলিয়ে যায়, যা স্বজনদের জন্য গভীর মানসিক কষ্টের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
চন্দ্রা ঘুন্টি এলাকার ইজিবাইকচালক শান্ত বলেন, ‘সড়কে পানি জমে থাকায় যানবাহন চালাতে চরম ভোগান্তি হয়। প্রায়ই গাড়ির মোটর নষ্ট হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে। অনেক যাত্রীও জলাবদ্ধ সড়কে যেতে চান না। ফলে আয়ও কমে গেছে।’

স্থানীয়রা জানান, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটছে। পানি নিষ্কাশনের খাল ও ড্রেন সংস্কার, নিয়মিত পরিষ্কার এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ছাড়া এ সমস্যা থেকে স্থায়ীভাবে মুক্তি মিলবে না। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি চলমান প্রকল্পের কাজ দ্রুত শেষ করার আহ্বান জানান তারা।
জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. হাফিজুর রহমান জানান, প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে জলাবদ্ধ এলাকাগুলো পরিদর্শন করা হয়েছে। তার দাবি, অপরিকল্পিতভাবে মাটি ভরাট ও বাড়িঘর নির্মাণের ফলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আনসার ক্যাম্প থেকে এলজিইডি হয়ে ব্রহ্মপুত্র নদ পর্যন্ত একটি ড্রেন নির্মাণ শেষ হলে পৌরসভার বড় একটি অংশের জলাবদ্ধতা কমে আসবে। পাশাপাশি বাকি এলাকাগুলোর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়নেও পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।


