ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস যেভাবে ইসরায়েলে আক্রমণ করেছিল ঠিক সেভাবেই ভারতের রাজধানী দিল্লিতে হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাম্প্রতিক বোমা হামলায় জড়িতরা। এমন তথ্য দিয়েছেন তদন্তকারীরা।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকা লাল কেল্লার পাশে গাড়িতে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় জড়িত ‘হোয়াইট কলার টেরর মডিউল’ বা নিজস্ব পেশার আড়ালে পরিচালিত সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ড্রোনে অস্ত্র বসিয়ে হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছিল। সেইসঙ্গে ড্রোনকে ক্ষেপণাস্ত্রের আদলে ব্যবহারেরও চেষ্টা করছিল তারা। হামাস ছাড়াও যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী এর আগে একই কৌশলে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেন তদন্তকারীরা।
কর্মকর্তারা জানান, গত ১০ নভেম্বর লাল কেল্লায় ওই সন্ত্রাসী হামলার আগেই অস্ত্রবাহী ড্রোনের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ করেন সন্দেহভাজন হামলাকারীরা। তাদের দাবি, এ ধরনের প্রচেষ্টার সঙ্গে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে চালানো হামাসের আক্রমণের মিল রয়েছে। সে হামলায় ইসরায়েলে ব্যাপক হত্যা ও ধ্বংস চালাতে ড্রোনকেই মূল অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছিল হামাস যোদ্ধারা।
ভারতের জাতীয় অনুসন্ধান সংস্থার (এনআইএ) কর্মকর্তারা আত্মঘাতী বিস্ফোরণে জড়িত দ্বিতীয় সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তারের পর এই ড্রোন হামলার পরিকল্পনার কথা জানতে পারেন। গ্রেপ্তার হওয়া ওই সন্দেহভাজন জাসির বিলাল ওয়ানী ওরফে ড্যানিশ। তিনি বিস্ফোরণ ঘটানো ও মূল পরিকল্পনাকারী উমর উন নাবির সহযোগী বলে জানান তদন্তকারীরা।
এর আগে, আমির রশিদ আলি নামের আরেক সন্দেহভাজনকে জম্মু-কাশ্মীরের শ্রীনগর থেকে গ্রেপ্তার করে এনআইএ-এর একটি দল।

এনআইএ-এর বিবৃতি অনুযায়ী, রশিদ ও ড্যানিশ দুজনই জম্মু ও কাশ্মীরের বাসিন্দা। ড্রোনগুলোকে অস্ত্র বহনে সক্ষম করে তুলতে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের কাজ করছিলেন ড্যানিশ। এছাড়া কিছু ড্রোনকে ক্ষেপণাস্ত্রের রূপ দিতেও তিনি হামলাকারীদের প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়েছিলেন।
ড্যানিশ বড় ব্যাটারি লাগানো এমন শক্তিশালী ড্রোন তৈরি করার চেষ্টা করেছিলেন, যা ভারী বোমা এবং ক্যামেরা বহন করতে সক্ষম। তিনি আগে ছোট অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন তৈরি করেছেন বলেও তদন্তে নিশ্চিত হন এনআইএ কর্মকর্তারা।
অনন্তনাগ জেলার এই সন্দেহভাজন সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সঙ্গে হামলার ষড়যন্ত্র করেছিলেন, এমনকি তিনি আত্মঘাতী বোমা হামলাকারী নাবির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
তদন্ত কর্মকর্তারা বলছেন, তাদের পরিকল্পনা ছিল জনবহুল একটি এলাকার ওপর দিয়ে একটি অস্ত্রসজ্জিত ড্রোন উড়িয়ে বড় ধরনের হামলা চালানো।
গত সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৫২ মিনিটে রাজধানী দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে একটি হুন্দাই আই-টোয়েন্টি মডেলের গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যালে থামার পর বিস্ফোরণ ঘটে।
এতে অন্তত নয়জন নিহত ও ২০ জন আহত হন। তাদের মধ্যে ওই গাড়িতে থাকা তিন ব্যক্তিও রয়েছেন বলে জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। তাদের ধারণা, আতঙ্ক ছড়াতেই গাড়িতে বিস্ফোরক রেখে ‘আত্মঘাতী’ হামলা চালায় সন্দেহভাজনরা।


