মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নিয়ে অস্ত্র দেখানোর ঘটনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের পদত্যাগকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা ঢাকার চেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।
তিনি বলেন, ‘সমস্যাটা তো হলো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর। গুলি কেন খেলেন ইশরাক ভাই? অর্থাৎ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দোষ করেন। আরেকজন এই পাপে ভোগেন। এটা আসলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যর্থতা। মাঝখান দিয়ে ইশরাক ভাই ফাঁদে পড়ে গেলেন।’
সোমবার সকালে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
এ সময় পূজা ঘিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যে বিভিন্ন স্থানে মানুষ মারা যাচ্ছে ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতিও সহানুভূতিশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। বলেন, ‘এমন কোনো আচরণ করা উচিত নয়, যাতে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ কষ্ট পান। তারা যাতে কোথাও ক্ষোভ বা দুঃখ বা আহত না হন, এই জিনিসটা আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে।’
এদিকে ইশরাকের হোসেনের পদত্যাগের বিষয়কে ‘জনগণের সামনে আইওয়াশের মতো’ বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন। তিনি বলেন, ‘সমস্যার গোড়ায় সমাধান না করে উপরিতলে কিছু পদক্ষেপ নিলে, সেটা জনগণের সামনে একটা আইওয়াশের মতো বিষয় হতে পারে। কিন্তু সমস্যার যেটা গোড়া, সেই জায়গায় কিন্তু কোনো সমাধান আসছে না।’
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং মাদক ও চাঁদাবাজি দমনে সরকারের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন তিনি।
আখতার হোসেন আরও জানান, জনগণের সম্মতি ছাড়া একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ সাংবিধানিক সংকট আরও ঘনীভূত করতে পারে। তিনি বলেন, ‘এটা দেশে একটা সাংবিধানিক নতুন সংকট তৈরি করবে। এনসিপি সবসময় দাবি জানিয়ে এসেছে, সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের মধ্য দিয়ে সাংবিধানিক বিষয়গুলো সুরাহা করতে হবে।’
এনসিপি সংবিধান সংশোধন কমিটিকে সহযোগিতা করবে না বলেও হুঁশিয়ার করেন তিনি। তার দাবি, এই কমিটির জনগণের পক্ষ থেকে বৈধতা নেই এবং এর মাধ্যমে জনগণের রায় উপেক্ষা করে একদলীয় সংবিধান প্রণয়নের চেষ্টা হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আখতার হোসেন বলেন, বিরোধী দলের অসহযোগিতার কারণে সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়া এগোচ্ছে না বলে সরকার যে দাবি করেছে, তা এনসিপি স্বীকার করে। তবে এই কমিটির বৈধতা নিয়ে তাদের আপত্তি রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটার কোনো জনগণের পক্ষ থেকে বৈধতা নেই। এটার গণভোটের কোনো বৈধতা নেই। সরকারের উচিত এই সংবিধান সংশোধন কমিটিকে বাতিল করে নতুন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ নিয়ে যে সংকট তৈরি হয়েছে, সেই সংকট নিরসনে সরকার জাতীয় ঐক্যের দিকে অগ্রসর হবে।’


