চট্টগ্রামের পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে প্রধান আসামি মো. আবিরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম মহানগরের ষষ্ঠ অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি আসামিকে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী। এর আগে, দুপুর ১২টার দিকে আসামিকে আদালতে হাজির করা হয়।
আসামি আবির আলীর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, সুরতহাল রিপোর্ট, ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, আলামত উদ্ধার এবং স্বাক্ষীদের জবানবন্দি পর্যালোচনায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের রায় আদেশ দেন।
রায়ের দিন আদালত পর্যবেক্ষণে বলেছেন, এই ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত, নিষ্ঠুর নৃশংস, নির্মম ও সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টিকারী।
২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরের ইপিজেড থানার বন্দরটিলা এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার মেয়ে আয়াত নিখোঁজ হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্তে নেমে জানতে পারে, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে তাদের বাসার ভাড়াটিয়া মো. আবির আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন। পরিকল্পনা ব্যর্থ হওয়ায় তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের জন্য মরদেহ খণ্ডিত করে সাগরপাড়ে ও খালের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন জানান, মামলায় মোট ৩৩ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন। গত ২৩ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আদালত রায় ঘোষণার জন্য ১৭ জুন দিন ধার্য করেছিলেন।
রায়ের আগে আয়াতের বাবা সোহেল রানা অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন যে, তিনি তার একমাত্র সন্তানকে আর ফিরে পাবেন না, তবে তিনি হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তি বা ফাঁসি প্রত্যাশা করেছিলেন। রায়ের মাধ্যমে তার সেই দাবি পূরণ হলো।
তিনি উল্লেখ করেন, যে বিচার আরও আগে হওয়ার কথা ছিল, তা পেতে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।


