কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার একমাত্র ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনে টানা ১৫ দিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ রয়েছে। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রৌমারী ও রাজিবপুর এই দুই উপজেলার সাধারণ মানুষ। স্থানীয়দের যাতায়াত ও দৈনন্দিন কাজে স্থবিরতা নেমে এসেছে।
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশন সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের ১০ তারিখে সর্বশেষ পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি করা হয়েছিল। এরপর থেকে শুধু ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে পেট্রোল-অকটেন সরবরাহ না থাকায় এই দুই উপজেলার সড়কগুলোতে মোটরসাইকেলের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে। তেলের অভাবে অনেক মালিক তাদের মোটরসাইকেল চালানো সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছেন।
অন্যদিকে গত কয়েক দিন ধরে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অটোরিকশাগুলোও সময়মতো চার্জ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাস্তায় অটোরিকশার সংখ্যাও কমে গেছে। সাধারণ মানুষকে দ্বিগুণ ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে কোনো যানবাহন না পেয়ে মানুষ পায়ে হেঁটে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।
স্থানীয় একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাকিরুল ইসলাম বলেন, তার বাসা থেকে স্কুলের দূরত্ব অনেক বেশি। আগে মোটরসাইকেলে যাতায়াত করা সুবিধাজনক হলেও এখন তেলের অভাবে অটোরিকশায় চলতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অটোরিকশা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। এ কারণে আগের চেয়ে দ্বিগুণ ভাড়া নিচ্ছে অটোরিকশ।
ওষুধ কোম্পানিতে কর্মরত জাহিদ জানান, মার্কেটিংয়ের কাজের জন্য তাকে সারা এলাকায় নিয়মিত যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান তেল সংকটের কারণে তাকে অনেক বাড়তি ভাড়া দিয়ে কাজ চালিয়ে নিতে হচ্ছে। এতে তিনি আর্থিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার শাহজামাল জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাদের জানিয়েছেন ফুয়েল কার্ড বিতরণ শেষ হলে তেল আনা সম্ভব হবে। মঙ্গলবার থেকে পুনরায় পেট্রোল-অকটেন বিক্রি শুরু করা যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন শাহজামাল।
ব্রহ্মপুত্র ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, স্টেশন কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে পেট্রোল আসামাত্রই বিতরণ শুরু হবে। তেলের পরিমাপে কারচুপির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গ্রাহকরা যাতে সঠিক মাপে তেল পান তা নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়। তেল পরিমাপের বিষয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষকে আরও সতর্ক করা হবে বলেও তিনি জানান।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলাউদ্দিন বলেন, মূলত তেল না আসার কারণেই এই সংকট তৈরি হয়েছে। ফুয়েল কার্ড একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এর জন্য তেল বিক্রি বন্ধ থাকার কোনো কারণ নেই। কার্ড বিতরণের কারণে তেল আনতে বারণ করার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।


