ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে সোমবার ভোরে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১১ জন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। হামলায় একাধিক বহুতল আবাসিক ভবন ও অন্যান্য স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো টেলিগ্রামে এ তথ্য জানিয়েছেন।
তকাচেঙ্কো জানান, ঐতিহাসিক পোদিলস্কি জেলায় একটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শুধু এই জেলাতেই চারটি আবাসিক ভবনে হামলার আঘাত লাগে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, উদ্ধারকর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে অভিযান চালাচ্ছেন। পোদিলস্কি জেলার আংশিক ধসে পড়া একটি ভবন থেকে ১৫ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন নারী ও ছয়জন শিশু রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, শহরের পূর্বাঞ্চলীয় দারনিতস্কি জেলায় একটি ২৫ তলা আবাসিক ভবনে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ আঘাত হানলে দুইজন নিহত হন। ভবনটির ওপরের তলায় আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধারে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল।
দারনিতস্কি জেলায় আরেকটি ৩০ তলা ভবনেও আগুন ধরে যায়। গত বৃহস্পতিবার একই এলাকায় রাশিয়ার শত শত ড্রোন ও কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, কিয়েভ ও এর আশপাশে একের পর এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং রুশ ড্রোন প্রতিহত করতে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় ছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামের বিভিন্ন অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলে প্রকাশিত ছবিতে বহুতল আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনে আগুন এবং ভবনের ভেতরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র দেখা গেছে। বিধ্বস্ত আবাসিক ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা জীবিতদের খুঁজে বের করছেন এবং আহতদের স্ট্রেচারে করে সরিয়ে নিচ্ছেন। বিভিন্ন ভবন থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা যায়।
অনেক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কিয়েভ মেট্রোর স্টেশন ও ভূগর্ভস্থ পার্কিং এলাকায় অবস্থান নেন।
এদিকে, সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় ইউক্রেনের প্রতিবেশী ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশ পোল্যান্ড সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সাময়িকভাবে যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করে।
এর আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাজধানীর বাসিন্দাদের আসন্ন রুশ হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।


