ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে ২০৭ রানের পূঁজি নিয়েও ৭৪ রানে ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ। শনিবার মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশের এই জয়ের নেপথ্যের কারিগর লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। ৯ ওভার বল করে ৩৫ রানে নিয়েছেন ৬ উইকেট। তার এই দারুণ পারফরম্যান্সেই তিন ম্যাচের সিরিজে ১-০ তে এগিয়ে গেছে বাংলাদেশ। তরুণ এই লেগি সাদা বলের ক্রিকেটে নিয়মিত হলেও টেস্ট দলে এখনো ডাক পাননি। তবে স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ মনে করেন টেস্ট ক্রিকেটেও দারুণ ভবিষ্যত আছে রিশাদের।
দীর্ঘদিন থেকেই রিশাদের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করছেন মুশতাক। সেই হিসেবে রিশাদের বোলিংয়ের খুঁটিনাটি থেকে শুরু করে সবই জানাশোনা আছে সাবেক এই পাকিস্তানি স্পিনারের। বড় টার্নের লেগ স্পিনের সাথে ইদানিং গুগলিটাও ভালো করছেন তিনি। উইন্ডিজের বিপক্ষে ৬ উইকেট নেয়ার ম্যাচে বেশিরভাগ ব্যাটারই আউট হয়েছেন রিশাদের গুগলিতে। বিশেষত শেষের দিকের ব্যাটাররা। আর এখানেই লাল বলের ক্রিকেটে রিশাদের সম্ভাবনা দেখছেন মুশতাক।
সোমবার দলীয় অনুশীলনের পর মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে তাই সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে রিশাদকে প্রশংসা করে মুশতাক বলেন, ‘আমি শতভাগ আশা করি সে টেস্ট ক্রিকেট খেলবে। বিশেষত শেষ চার উইকেট, অস্ট্রেলিয়া এবং ইংল্যান্ডের মতো দলগুলোর বিপক্ষে যারা শেষ দিকেও ভালো ব্যাট করতে পারে, সেখানে উচ্চতা ও বাউন্সের জন্য রিশাদের মতো লেগি দারুণ কার্যকরী হতে পারে। কারণ টেইলএন্ডাররা তার গুগলিগুলো বুঝতে পারে না। টেস্ট ক্রিকেটের জন্য রিশাদ খুবই দারুণ একজন বোলার হতে পারে। কিন্তু এর জন্য তাকে টানা ভালো ওভার করে যেতে হবে।’
রিশাদের সাফল্যের কারণ ব্যাখ্যা করে মুশতাক বলেন, ‘একজন কোচ হিসেবে আমি প্রক্রিয়া মেনে চলার গুরুত্ব অনেক বলি। রিশাদ ঠিক সেই কাজটি করেছে। উইকেটের সুবিধা নিয়ে ভেসে না গিয়ে, খুব ধারাবাহিকভাবে সঠিক লাইন ও লেংথে বল করেছে এটাই তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি।’
২০১৮ সালে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২১টি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলে ৩১ উইকেটে নিয়েছেন ৪৫.৩৮ বোলিং গড়ে। প্রাথমিকভাবে টি-টোয়েন্টির জন্য তাকে ভাবা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ানডেও খেলানো হচ্ছে তাকে। তবে লাল বলের ক্রিকেট থেকে বেশ দূরেই আছেন রিশাদ।,


