অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ২০২১ সালে নোবেল বিজয়ী অং সান সু চি সরকার উৎখাতের পর মিয়ানমারে শুরু হয়েছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। অবশ্য গোটা দেশের মানুষ নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে অন্তত অর্ধেক মানুষ ভোট দিতে পারবেন না বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
বিবিসিসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম এই নির্বাচনকে ‘প্রহসনের’ বা ‘বিতর্কিত’ আখ্যা দিয়ে সংবাদ প্রকাশ করেছে।
দেশটিতে এমন সময় এই নির্বাচন হচ্ছে যখন প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং দলগুলোর অধিকাংশ নেতা কারাগারে রয়েছেন।
সু চি সরকার উৎখাতের অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারজুড়ে তীব্র গণবিক্ষোভের জন্ম দেয়। এক পর্যায়ে যা গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, জান্তা সরকার চীনের সমর্থনে এই ধ্বংসাত্মক অচলাবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে। একই সঙ্গে নিজেদের ক্ষমতাকে বৈধ ও সুসংহত করার চেষ্টা করছে। আর সেই চিন্তা থেকেই আয়োজন করা হয়েছে এই নির্বাচনের।
নির্বাচনে বাধা দেওয়া বা বিরোধিতার অভিযোগে নতুন একটি আইনের অধীনে দুই শতাধিক মানুষের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এই আইনে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
রোববার যখন ভোটগ্রহণ শুরু হয় তখন মিয়ানমারের অন্তত দুটি অঞ্চল থেকে আসে বিস্ফোরণের খবর।
বিবিসি জানিয়েছে, ভোরে মান্দালয় অঞ্চলে রকেট হামলায় তিনজন আহত হন। যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এর আগে শনিবার গভীর রাতে থাইল্যান্ড সীমান্তের কাছে মিয়াওয়াদ্দি টাউনশিপে ধারাবাহিক বিস্ফোরণে ১০টিরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসময় এক শিশু নিহত হয়, গুরুতর আহত তিনজনকে জরুরি অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নির্বাচন নিয়ে ওঠা বিভিন্ন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে মিয়ানমার জান্তা সরকার। তাদের দাবি, তারা দেশকে ‘বহুদলীয় গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরিয়ে নিতে’ চায়।
এই ভোটের বিরোধিতা করা বা বাধা দেওয়ার মতো কোনো চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে জান্তা সরকার।
এই সপ্তাহের শুরুর দিকে জান্তা প্রধান মিন অং হ্লাইং সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যারা ভোট দিতে অস্বীকার করছে তারা মূলত গণতন্ত্রের দিকে অগ্রসর হওয়াকে প্রত্যাখ্যান করছে।
জুলাই মাসে প্রণীত নির্বাচনী বাধা বিরোধী আইনের অধীনে চলচ্চিত্র পরিচালক মাইক টি, অভিনেতা কিয়াও উইন হতুত এবং কৌতুক অভিনেতা ওন ডাইংসহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রচারণামূলক একটি চলচ্চিত্রের সমালোচনা করার দায়ে তাদের প্রত্যেককে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক প্রধান ভলকার তুর্ক বলেছেন, ‘সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, সংগঠন করার বা শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার চর্চার কোনো পরিবেশ নেই।’
সাধারণ মানুষ সব পক্ষ থেকে চাপের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোও জনগণকে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়ে হুমকি দিচ্ছে।’
মিয়ানমারে এ মুহূর্তে সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জাতিগত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো একাধিক স্থানে লড়াই চলছে।
দীর্ঘ এ গৃহযুদ্ধে দেশটিতে হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছে, লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে এবং অর্থনীতি পৌঁছে গেছে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।


