যশোরে একদিনের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে ১৫০ টাকা। শনিবার সেখানকার খুচরা বাজারে মানভেদে প্রতি কেজি মরিচ বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা দরে। যা শুক্রবার বিক্রি হয়েছিল ২৮০ থেকে ২৯০ টাকা দরে।
টানা বৃষ্টিতে ফসল নষ্ট হওয়া এবং বাজারে দেশি মরিচের ঘাটতিই দাম বাড়ার মূল কারণ বলছেন ব্যবসায়ীরা। তবে কৃষি বিভাগ বলছে, কিছুদিন পর বাজারে নতুন কাঁচামরিচ আসবে। তার আগে বৃদ্ধি পেয়েছে দাম।
শহরের বড় বাজারের কাঁচামরিচ ব্যবসায়ী রানা গাজী জানান, বাজারে এখন দেশি কাঁচামরিচের তীব্র সংকট রয়েছে। তাই মানভেদে পাইকারিতেই ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা কেজিতে মরিচ বিক্রি হচ্ছে। খুচরা বাজারে আগে মজুদ করা মরিচের দাম কিছুটা কম রয়েছে। তবে, যদি দ্রুত আমদানিপত্র (এলসি) না করা হয়, তবে এর দাম ১ হাজার ২০০ টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
‘বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ফসলের ক্ষতি আরও বাড়বে। এতে দাম আরও বেড়ে যাবে’ বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন আরেক ব্যবসায়ী দিপু বিশ্বাস।

বাজার করতে আসা নাসরিন বেগম উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘একদিনের মধ্যে দাম কীভাবে দ্বিগুণ হয়ে যায়! ৪০০ টাকা দিয়ে কাঁচামরিচ কেনা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য অসম্ভব। বাজার মনিটরিং করলে এমনটা হতো না। এখন যে অবস্থা তাতে মরিচ ছাড়া রান্না করতে হবে।’
‘সবজির বাজারে এমনিতেই হাত দেওয়া যায় না। এখন কাঁচামরিচ যদি ৪০০ টাকা হয়, তাহলে আমাদের মতো নিম্নবিত্তদের সংসার চলবে কীভাবে? সরকারের উচিত দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আর এক ক্রেতা।
বাজার তদারকি কমিটির সদস্য ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর যশোরের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ সেলিমুজ্জামান বলেন, ‘শনিবার সকাল থেকে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে মরিচের দাম কিছুটা বৃদ্ধি পায়। তবে অসাধু ব্যবসায়ীরা অবৈধভাবে মজুদ করে দাম বাড়াচ্ছে কিনা সেটিও তদারকি করা হচ্ছে।’
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর যশোরের উপপরিচালক মোশাররফ হোসেন জানান, চলতি বছর জেলায় ৬৬৫ হেক্টর জমিতে কাঁচামরিচের চাষ করা হয়েছে। বৃষ্টিতে খেতের কোন ক্ষতি হয়নি। তবে ট্রানজিশন পিরিয়ড (দুই ফসল তৈরির মধ্যবর্তী সময়) হওয়ায় দাম কিছুটা বেড়েছে। নতুন মরিচ বাজারে আসতে ১৫ থেকে ২০ দিন সময় লাগবে। তখন মরিচের দাম আবার পাঁচ থেকে ১০ টাকা কেজিতে নেমে আসবে।


