মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে নারী ও শিশুসহ সাতজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) বিরুদ্ধে। তবে ঘটনাস্থলে বিজিবি পৌঁছানোর আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেওয়ায় পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের আর আটক করা সম্ভব হয়নি।
বৃহস্পতিবার ভোরে কমলগঞ্জ উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের দেবলছড়া সীমান্তের বকশিটিলা এলাকা দিয়ে ওই সাত জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ভোরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ছয় নারী ও একটি শিশু বাংলাদেশে প্রবেশ করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পরিচয় জানতে চান। এ সময় তারা জানান, ভারতের একটি কারাগারে প্রায় ২৫ দিন আটক থাকার পর ভোরে চোখ বেঁধে তাদের সীমান্তের কাছে নিয়ে এসে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া হয়।
স্থানীয় যুবক সাহেল আহমেদ বলেন, ‘আমি তাদের আটক করে বিষয়টি ইউপি সদস্য এবং কমলগঞ্জ থানাকে জানাই। পরে থানা থেকে তাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর ইউপি সদস্য চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলে তাদের একটি অটোরিকশায় তুলে দেন।’
তবে আলীনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নিয়াজ মোর্শেদ রাজু বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে জানার আগেই স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দেন। পুশইনের শিকার নারীরা বাংলাদেশি নাগরিক এবং তাদের বাড়ি ঢাকার সাভার এলাকায় বলে জানা গেছে।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কমর উদ্দিন বলেন, ‘চিৎলীয়া বকশিটিলা এলাকা দিয়ে দুই থেকে আড়াই বছর বয়সী এক শিশুসহ সাতজন নারী প্রবেশের খবর পাই। ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তথ্য পেয়ে খোঁজ নেওয়া হলে জানা যায়, স্থানীয়রা তাদের ছেড়ে দিয়েছেন। পরে বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও তাদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।’
শ্রীমঙ্গল ব্যাটালিয়নের (৪৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সরকার আসিফ মাহমুদ বলেন, ‘পুশইনের খবর পেয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিন্তু সেখানে গিয়ে জানা যায়, স্থানীয়রা তাদের কিছুক্ষণ আটকে রাখার পর ছেড়ে দিয়েছেন। এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের উচিত তাৎক্ষণিকভাবে বিজিবিকে অবহিত করা অথবা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করা।’
সীমান্তে পুশইনের বিষয়ে বিজিবির নজরদারি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।


