লেবাননকেও যুদ্ধবিরতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ইরান ও পাকিস্তান
তেহরানে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জোরালোভাবে জানিয়েছেন, যে কোনো ব্যাপকভিত্তিক যুদ্ধবিরতির অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে হবে লেবানন।
আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার সময় গালিবাফ স্পষ্ট করেন, লেবাননকে বাদ দিয়ে কোনো স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। বৈঠকে তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিশেষ করে পাকিস্তানের সঙ্গে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক আরও গভীর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গালিবাফ শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইরানের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করলেও যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে বলেন, তারা তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করে শান্তি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করছে।
তিনি মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানান যেন যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি সকল সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলের ওপর কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা হয়।
অন্যদিকে, জেনারেল আসিম মুনির এই আলোচনার প্রশংসা করেন এবং লেবাননে যুদ্ধবিরতির গুরুত্বকে সমর্থন জানিয়ে তা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার আশ্বাস দেন।
তিনি উল্লেখ করেন, সংঘাতের শুরু থেকেই পাকিস্তান ইরান সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কাজ করেছে এবং আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনে ইসলামাবাদ তাদের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। সফরের অংশ হিসেবে পাক সেনাপ্রধান ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেছেন।
সূত্র: আল জাজিরা

ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি দিলেন ট্রাম্প
ইসরায়েল ও লেবাননের ১০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ার তথ্য দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তার ঘোষণা অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রাত ৩টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে।
ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি লেবাননের সম্মানিত প্রেসিডেন্ট জোসেফ আউন ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে চমৎকার আলোচনা করেছি।’
‘এই দুই নেতা তাদের দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা থেকে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি শুরু করতে রাজি হয়েছেন।’
এর আগে, মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনে বৈঠকে বসেছিল দুই পক্ষ। সেদিন কোনো চুক্তি ছাড়াই আলোচনা শেষ হয়। তবে নতুন করে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছিল ইসরায়েল ও লেবানন।
সেদিনের বৈঠকের কথা তুলে ধরে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘৩৪ বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো দুই দেশ মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে আমাদের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উপস্থিতিতে বৈঠক করে।’
‘আমি ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও ও জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যানকে ইসরায়েল ও লেবাননের সঙ্গে বসে একটি স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দিয়েছি।’
পোস্টের শেষে ট্রাম্প লেখেন, ‘বিশ্বের নয়টি যুদ্ধ সমাধান করাটা আমার জন্য সম্মানের বিষয় ছিল, আর এটি হবে দশম। তাই চলুন, আমরা এটি সম্পন্ন করি!’
সূত্র: আল জাজিরা
ইরান রাজি না হলে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত: প্রতিরক্ষামন্ত্রী
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন, যতদিন প্রয়োজন ততদিন ইরানের বন্দর অবরোধ চালিয়ে যাবে যুক্তরাষ্ট্র।
ওয়াশিংটন ডিসিতে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন হেগসেথ। তিনি বলেন, ‘মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করছে, কারণ ইরানের আর কোনো নৌবাহিনী নেই।’
হেগসেথ আরও বলেন, ‘ইরান যদি কোনো চুক্তিতে সম্মত না হয় তবে মার্কিন বাহিনী যুদ্ধ শুরু করতে প্রস্তুত।’
সূত্র: আল জাজিরা
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত
লেবাননের ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, লেবাননের সঙ্গে সিরিয়ার সংযোগকারী দাহর আল-বায়দার রোডে একটি গাড়িতে ইসরায়েলি হামলায় একজন নিহত হয়েছেন।
বর্তমানে রাস্তাটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য অবকাঠামো রক্ষায় জরুরি আহ্বান বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার
লেবাননে ইসরায়েলের চলমান হামলার মধ্যে দেশটির স্বাস্থ্য অবকাঠামো রক্ষায় জরুরি আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুস। তিনি বলেন, ‘অবিলম্বে লেবাননজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্যকর্মী, অ্যাম্বুলেন্স ও রোগীদের তাৎক্ষণিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’
আল জাজিরার খবরে বলা হয়, দক্ষিণ লেবাননের ট্রমা ব্যবস্থাপনার অন্যতম ব্যস্ত হাসপাতাল তেবনিন সরকারি হাসপাতালে ১২ ও ১৪ এপ্রিলের দু দফায় হামলা চালায় ইসরায়েল।
সামাজিক মাধ্যমে এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গেব্রেয়েসুস বলেন, এসব হামলায় অন্তত ১১ জন কর্মী আহত হয়েছেন এবং হাসপাতালের জরুরি বিভাগ ও অতি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ধ্বংস হয়ে গেছে। হাসপাতালের ওষুধাগার এবং বহির্বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২ মার্চ লেবাননের ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে যুদ্ধে জড়ায় ইসরায়েল। এরপর থেকে এখন পর্যন্ত স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোতে ১৩৩টি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান জানান, এসব হামলায় ৮৮ জন নিহত এবং ২০৬ জন আহত হয়েছেন। পাশাপাশি ১৫টি হাসপাতাল ও সাতটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং পাঁচটি হাসপাতাল ও ৫৬টি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে।
লেবাননজুড়ে নিরাপদ, অব্যাহত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘জরুরি জীবনরক্ষাকারী সেবা দ্রুত এবং কোনো ঝুঁকি ছাড়াই জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল দ্বিতীয় জাহাজ

ইরানের বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিয়ে উপসাগরে ঢুকেছে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা জাহাজ। এ নিয়ে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা দ্বিতীয় জাহাজ হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল।
নৌ পরিবহন পর্যবেক্ষণ সংস্থা কেপলারের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
প্রথম জাহাজটি চীনের মালিকানাধীন হলেও দ্বিতীয় জাহাজের পরিচয় জানা যায়নি। কেপলার জানিয়েছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত একটি বিশাল ইরানি তেলবাহী জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে অবরোধ উপেক্ষা করে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ইমাম খোমেনি বন্দরের দিকে এগিয়ে গেছে।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর গত রোববার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সব বন্দরে অবরোধের ঘোষণা দেন। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) দাবি করেছে, সোমবার থেকে শুরু হওয়া অবরোধে এখন পর্যন্ত ১০টি জাহাজকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কোনো জাহাজ অবরোধ ভেঙে এগোতে পারেনি।
এদিকে সমুদ্র তথ্য বিশ্লেষণকারী সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ‘আরএইচএন’ নামের একটি বিশাল তেলবাহী জাহাজ বুধবার উপসাগরে প্রবেশ করেছে। তবে জাহাজটিতে কোনো তেল পরিবহন করা হয়নি। প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহনে সক্ষম এই জাহাজটির গন্তব্যও স্পষ্ট নয়। এর একদিন আগে ‘অ্যালিসিয়া’ নামের আরেকটি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ প্রণালি অতিক্রম করে ইরাকের দিকে যায়।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানি তেলের ক্রেতাদের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা ভবিষ্যৎ আলোচনায় ইরানের ওপর চাপ তৈরির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
অন্যদিকে, আলোচনায় অগ্রগতি হলে ইরান হরমুজ প্রণালির ওমানি অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন অবরোধে ইরানের তেল রপ্তানি কমতে পারে। তবে স্থলভাগে মজুত রেখে দেশটি কয়েক সপ্তাহের মধ্যে দৈনিক প্রায় ৩৫ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল উৎপাদন ধরে রাখতে পারবে। গত মার্চে ইরান দৈনিক ১৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল রপ্তানি করতে পারলেও এপ্রিল মাসে তা গড়ে ১৭ লাখ ১০ হাজার ব্যারেলে নেমেছে।
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে তীব্র খাদ্য সংকটের শঙ্কা বিশ্বব্যাংকের

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বিশ্বজুড়ে খাদ্য সংকটকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বব্যাংক।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংট ডিসিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বসন্তকালীন বৈঠকের ফাঁকে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ আশঙ্কা জানান প্রতিষ্ঠানটির প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল।
তিনি বলেন, বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ তীব্র খাদ্য সংকটে ভুগছে। ইরান ও লেবাননে চলমান যুদ্ধ ও এর প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হলে এই সংখ্যা খুব অল্প সময়ের মধ্যেই প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেন গিল।
তিনি জানান, যেসব দেশে যুদ্ধ চলছে অথবা যেসব দেশের সরকার দুর্বল ও অস্থিতিশীল, সেসব দেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। তিনি বলেন, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে না এলে এসব দেশে ভয়াবহ আকারে দুর্ভিক্ষ ছড়িয়ে পড়তে পারে।
গিলের মতে, এরইমধ্যে উৎপাদিত পণ্য ও খাদ্য সামগ্রী বর্তমানে বাজারে আছে বলে খাদ্য সংকটের ভয়াবহতা এখনো স্পষ্ট নয়। তবে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি সংকট এবং মূল্যবৃদ্ধির জেরে ফসল উৎপাদনও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কাজেই বাজারে খাদ্যপণ্যের প্রকৃত সংকটের প্রভাব কয়েক মাস পর থেকে স্পষ্টভাবে অনুভূত হতে পারে।
সূত্র: এএফপি


