ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) একটি পলিসি বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে চুক্তিটি বাতিল করা উচিত কি না, সেই প্রশ্নে পক্ষে ও বিপক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বরে সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের উদ্যোগে এ বিতর্কের আয়োজন করা হয়। বিতর্কের বিষয় ছিল ‘ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির সময়কালেই বাংলাদেশে নবনির্বাচিত সরকারের উচিত মার্কিন চুক্তি সম্পূর্ণ বাতিল করা।’
বিতর্কে সরকারি দলের ভূমিকায় অংশ নেন ওমর ফাহমিদ খান, আমরিন বিনতে ইসলাম ও তাসমিয়া তাহমিদ আপন। তারা প্রস্তাবের পক্ষে অবস্থান নিয়ে যুক্তি উপস্থাপন করেন। অন্যদিকে বিরোধী দলের ভূমিকায় মার্জিয়া মিম, মাহমুদুল হাসান তুষার ও আবু সুফিয়ান নাহিদ প্রস্তাবের বিপক্ষে বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে প্যানেলিস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য মাহতাব উদ্দীন আহমেদ এবং সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফিকুজ্জামান ফরিদ। মডারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শিক্ষক, গবেষক ও লেখক মাহা মির্জা।
আলোচনায় মাহতাব উদ্দীন আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের করা মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি জুলাই সনদের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তবে এ বিষয়ে জুলাই সনদের সমর্থক রাজনৈতিক শক্তিগুলোর নীরবতা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
রাফিকুজ্জামান ফরিদ দাবি করেন, প্রস্তাবিত মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং স্থানীয় শিল্পের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে। তার মতে, চুক্তি কার্যকর হলে ডেইরি, পোল্ট্রি ও অন্যান্য উৎপাদনমুখী খাত ক্ষতির মুখে পড়বে। তিনি চুক্তি বাতিলের দাবি জানান।
মাহা মির্জা বলেন, চুক্তির কিছু ধারা দেশের অর্থনীতি, কৃষি ও শিল্পখাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। গার্মেন্টস খাতের স্বার্থ রক্ষার যুক্তিতে এমন চুক্তি করা হলেও তা অন্য খাতগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং নীতিনির্ধারণী স্বাধীনতার ক্ষেত্রও সংকুচিত করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
বিতর্কে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা চুক্তির সম্ভাব্য অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব নিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। আয়োজকদের মতে, সমসাময়িক জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ইস্যুতে শিক্ষার্থীদের নীতিনির্ধারণমূলক চিন্তা ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর লক্ষ্যেই এ আয়োজন করা হয়েছে।


