‘৫ আগস্ট সন্ধ্যায় অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে কথা হয়। চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের কার্যালয় থেকেই আমি তাকে ফোন করি। ফ্রান্সের যে হাসপাতালে তিনি ভর্তি ছিলেন, কিছুক্ষণের মধ্যেই অস্ত্রোপচারের জন্য সেটির অপারেশনকক্ষে তাকে নিয়ে যাওয়ার কথা। লাউড স্পিকারে আমি আর নাহিদ ভাই তার সঙ্গে কথা বলি। সেদিনই নাহিদ ইসলামের সঙ্গে তার প্রথম কথা হলো। অধ্যাপক ইউনূসকে বললাম, “স্যার, সরকারের তো পতন হয়ে গেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়। সিদ্ধান্ত নিতে হবে।” তাকে আমরা জাতীয় সরকারের ধারণার কথাটাই বললাম। অধ্যাপক ইউনূস বললেন, তিনি ইতিবাচক, তবে অনেকগুলো ব্যাপার আলোচনা করতে হবে। সবাইকে জানালাম, অধ্যাপক ইউনূস ইতিবাচক।’ চূড়ান্ত বিজয়ের পর মুহূর্তের দিনগুলোর কথা এভাবে স্মৃতিচারণ করে বলেন জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক, বর্তমান স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

জুলাই অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা ছিলেন তিনি। ‘জুলাই: মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ শীর্ষক গ্রন্থে অভ্যুত্থানের দিনলিপি তুলে ধরেছেন সজিব ভূঁইয়া। গত মার্চে প্রথমা প্রকাশনের প্রকাশিত বইয়ে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকার’ নামক পর্বে শেষ অংশে তিনি তুলে ধরেন নতুন দেশ গড়ার শুভ সূচনার কথা।
আফিস মাহমুদ বলেন, ‘৫ আগস্ট রাতে চ্যানেল টোয়েন্টি ফোরের কার্যালয় থেকে বের হয়ে প্রথমে আমরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গেলাম। কার্জন হল এলাকায় একজন শিক্ষকের সহায়তায় আমদরা একটা বিভাগের কনফারেন্স কক্ষে বসি। সেখানে বসে ফেসবুকে পোস্ট করে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাই। রাতে বিভিন্ন জায়গায় ডাকাতির খবর পাওয়া যাচ্ছিল। এসব ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক এবং রাজপথে থাকার জন্যও আহ্বান জানানো হয়। চূড়ান্ত বিজয় না আসা পর্যন্ত সবাই যাতে রাজপথে থাকে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে যারা ঢাকায় এসেছে, তারা যাতে ঢাকাতেই থাকে-আমরা সে আহ্বানও জানাচ্ছিলাম। রাত ১১টা-১২টার দিকে অধ্যাপক আসিফ নজরুল কার্জন হলের ওই কনফারেন্স কক্ষে আসেন।’
‘এরপর আমরা ধানমন্ডির একটা বাসায় যাই। বিভিন্ন জায়গা থেকে তখনো গোলাগুলি আর ডাকাতির খবর আসছিল। পুলিশ পালিয়ে যাওয়ার সময় গুলি করছে। বিভিন্ন জায়গা থেকে এমন গুজবও শোনা গেল যে ভারত সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করছে। সারা দেশে অস্থির একটা পরিস্থিতি। সব মিলিয়ে একটা উত্তেজনাপূর্ণ ও আতঙ্কজনক অবস্থা। আমাদের মনে হলো, রাতের মধ্যেই ভবিষ্যৎ রূপরেখা ঘোষণা করা দরকার। তা না হলে অস্থির এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে অনেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘রাতেই আমরা অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে আবার যোগাযোগ করলাম। তার সঙ্গে লাউড স্পিকারে নাহিদ ভাই আর আমার ঘণ্টাখানেক কথা হলো।’

‘অধ্যাপক ইউনূসকে বললাম, “স্যার, দেশের যে পরিস্থিতি, তাতে দ্রুত ঘোষণা করা দরকার দেশের পরবর্তী প্রধান উপদেষ্টা কে হচ্ছেন।” অধ্যাপক ইউনূস এই ব্যাপারে সতর্ক ছিলেন যে এক-এগারোর মতো সেনাসমর্থিত সরকার হলে তিনি দায়িত্ব নেবেন না। সরকার তার মতো করেই চলতে হবে। অন্য কেউ সরকার চালালে তিনি থাকবেন না। অধ্যাপক ইউনূসকে জানালাম, এটা আমাদেরও মত। সেনাসমর্থিত সরকার হলে আমরাও মানব না। অধ্যাপক ইউনূস ব্যাপারটা নিয়ে আগেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে কথা বলে নিতে বললেন। নাহিদ ভাই তাকে বললেন, হস্তক্ষেপ না করার কথা বললে আমাদেরই দুর্বলতা প্রকাশ পাবে। এর চেয়ে অভ্যুত্থানের প্রতি মানুষের একাত্মতা আর মাঠের শক্তি দিয়েই আমরা তাদের ক্ষমতা থেকে দূরে থাকার বিষয়টা বোঝাতে পারব।’
‘দীর্ঘ আলোচনার পর অধ্যাপক ইউনূস সম্মত হলেন। রাত ৩টায় আমি, নাহিদ ভাই ও বাকের ফেসবুকে একটা ভিডিওতে অধ্যাপক ইউনূসকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা পদে সম্মত হওয়ার কথা ঘোষণা করি। আমরা বললাম, ছাত্র-নাগরিক অভ্যুত্থানের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে শান্তিপূর্ণ অবস্থান রাখুন। অধ্যাপক ইউনূসকে আমরা প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ সর্বত্র প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করি। সেটা সফলও হয়।’
‘আগের সংসদ বহাল রেখে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যদের দিয়ে একটা উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের কথা সেই সময়ে কেউ কেউ বলেছিল। ৬ আগস্ট বেলা ১১টায় এক ভিডিও বার্তায় ওই দিন দুপুর ২টার মধ্যে সংসদ বিলুপ্ত করার আহ্বান জানাই। এর মধ্যেই রাষ্ট্রপতি সংসদ ভেঙে দেন।’
‘যে স্থান থেকে ভিডিও বার্তা দিয়েছিলাম, বার্তা দেওয়ার পর সেখান থেকে জায়গা বদলে অন্যত্র চলে যাই। নিরাপত্তা নিয়ে তখনো বেশ উদ্বিগ্ন ছিলাম। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙে পড়েছিল। যেকোনো কিছুই ঘটার আশঙ্কা ছিল।’
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের নেপথ্য কাহিনী তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি সংসদ ভাঙার ঠিক আগে সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামানের একজন ব্যক্তিগত কর্মকর্তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ হয়। তিনি বললেন, সেনাপ্রধান আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চান। কিছুক্ষণ পরে সেনাপ্রধানের সঙ্গে কথা হয়। তিনি খুব আক্ষেপ করে বললেন, “আমার ৭০ থেকে ৮০ হাজার ফোর্স ডেপ্লয়েড, কিন্তু দেশে কোনো আইনশৃঙ্খলা নেই। সরকার নেই। আপনারা আসুন। আপনাদের সঙ্গে বসি। শুনি, আপনারা কী বলতে চান?”
‘সেনাপ্রধান আমাদের ক্যান্টনমেন্টে ডাকলেন। আমরা বললাম, ক্যান্টনমেন্টে যাব না। হতে পারে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার বা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, আপনাদের সঙ্গে কোনো খোলা জায়গায় বসতে পারি। সেনাপ্রধান বললেন, “খোলা জায়গায় তো নিরাপত্তার ব্যাপার আছে। কখন কী ঘটে, বলা যায় না।” তিনি বললেন, “বঙ্গভবন একটা জায়গা হতে পারে। আপনারা আসুন, আমরা একটা গাড়ি পাঠাই।”
‘৬ আগস্ট সন্ধ্যায় আমরা ১৫ জনের মতো বঙ্গভবনে গেলাম। এরই মধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যম অধ্যাপক ইউনূসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে শুরু করেছে। তিনি বললেন, “শিক্ষার্থীরা এত ত্যাগ করতে পারলে আমারও কিছু দায়িত্ব আছে।”
‘কথা ছিল, বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি এবং তিন বাহিনীর প্রধানের সঙ্গে আমরা বসব। দেশে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি থাকার কারণে আলোচনার জন্য আমাদের বঙ্গভবনে যেতে হয়েছিল। বঙ্গভবনে যাওয়ার আগে ১১ জনের একটা উপদেষ্টা পরিষদের তালিকা তৈরি করা হয়।’
‘৫ আগস্ট রাজনৈতিক দলগুলোর আমাদের সঙ্গে কোনো আলাপ-আলোচনা না করে ক্যান্টনমেন্টে যাওয়াটা ছিল বড় একটা ভুল। রাজনৈতিক দলগুলো বুঝে বা না বুঝে সেখানে গিয়ে ক্ষমতাকে একরকমভাবে ক্যান্টনমেন্টের দিকে নিয়ে যান। আলোচনার অংশীজন হতে গিয়ে অভ্যুত্থানের সরকার বা জাতীয় সরকার গঠনের ধারণা একরকমভাবে করে দেওয়া হয়েছিল। আমরা একেবারে স্পষ্ট যে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনের পরে শেখ হাসিনার পতন অসম্ভব বলে মনে হতো। সেই নির্বাচনের পর চূড়ান্ত ক্ষমতার চর্চা শুরু হয়ে যায়। বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি ফিরিয়ে আনা থেকে শুরু করে কোটা পুনর্বহাল করা ছিল তারই নমুনা। আমাদের দীর্ঘ লড়াইয়ের অর্জনগুলো ধূলিসাৎ হয়ে যাচ্ছিল। তার পরও আন্দোলনের একদম শুরুর দিকে বাকেরকে বলেছিলাম, এই আন্দোলন থেকে সরকার পতনের দিকে যাওয়ার সম্ভাবনা যদি দশমিক শূন্য এক শতাংশও থাকে, তবু সেদিকে এগিয়ে যাব। সেই তাড়নাটা আমাদের মধ্যে সব সময় ছিল। আমাদের রাজনীতির সাধারণ বোঝাপড়াই ছিল হাসিনার পতন। ফ্যাসিবাদবিরোধী বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনও গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ভূমিকা পালন করে।’
‘এর আগের আন্দোলনগুলোতে যেভাবে “বঙ্গবন্ধুর বাংলায়”, “শেখ হাসিনার বাংলায়” ইত্যাদি স্লোগান উঠত, এবারের আন্দোলনে তা পরিহারের চেষ্টা করা হয়েছে। আগের আন্দোলনে ছাত্রলীগকেও কাছে টানা বা কিছুটা সংস্পর্শে রাখার প্রচেষ্টা ছিল। এবারে তা করা হয়নি। হল থেকে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে আসতে যখন বাধা দেওয়া হয়েছে, সেটা এড়িয়ে না গিয়ে আমরা মিছিল নিয়ে হলের সামনে গিয়েছি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও কড়া বার্তা দিয়েছি। আপসকামিতার বদলে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আপসহীনতাই এই আন্দোলনকে সামনে এগিয়ে নিয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘গুলশানের গলিতে দেখেছি, স্যুট-টাই পরা ধনাঢ্য ব্যক্তি আর কড়াইল বস্তির নিম্নবিত্ত এক সারিতে দাঁড়িয়ে পুলিশের গুলির সামনে লড়াই করেছে। কোটা সংস্কারের আন্দোলন ছোট্ট ক্যাম্পাস থেকে পাড়া-মহল্লা, গ্রামে-গঞ্জে-দেশের সর্বত্র বৃহত্তর আন্দোলন হয়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। শিক্ষক, শিল্পী, বস্তুশ্রমিক, রিকশাওয়ালা, জেলে, তাঁতি, হিন্দু, মুসলিম, খ্রিষ্টান, পাহাড়, সমতল, নারী, পুরুষ, কিশোর, কিশোরী, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা সব শ্রেণি-পেশার মানুষের একাত্মতায় মাত্র ৩৬ দিনে ১৬ বছর চেপে বসা ফ্যাসিস্ট সরকারপ্রধান দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হন। আগামীর বাংলাদেশ সবার, শুধু ফ্যাসিবাদীরা ছাড়া। বাংলাদেশের মানুষ বুক চিতিয়ে লড়াই করেছে পুরোনো কাঠামোর অস্তিত্ব বিলোপ করে নতুনত্বের পথে যাত্রা করার জন্য। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মতো নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে সবাই আবার কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করবে যেকোনো সংকটে।’

‘দেশের প্রতিটি প্রান্তে লড়াইগুলোকে সংগঠিত করার ক্ষেত্রে তাদের সবার অবদান আছে। সারা দেশে এই অভ্যুত্থানের সংগঠক ছিল পাঁচ লাখের মতো মানুষ। তাদের কেউ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্য, কেউ আবার একেবারেই সাধারণ মানুষ। ৫ আগস্ট কোটিখানেক জনগণ ঢাকার রাজপথে নেমেছিল।’
‘শনির আখড়া থেকে যেদিন আমি গুলশানের দিকে যাই, সেদিন দোকানপাট বন্ধ ছিল। “কমপ্লিট শাটডাউন” চলছিল। একটা দোকানের শাটার ছিল অর্ধেক নামানো। দোকানদারকে গিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “ভাই, দোকানপাট সব বন্ধ কেন?” তিনি বললেন, ‘ভাই, ছাত্ররা ডাক দিছে শাটডাউন করার জন্য। আমরা শাটডাউন করতেছি। কিন্তু জরুরি জিনিসপত্র নেওয়ার জন্য একটু খোলা রাখছি। মানুষ রান্নাবান্নার জন্য মুদি জিনিসপত্র নেয় তো।’ তখন মনে হয়েছিল, এই মানুষগুলো সেভাবে জানেও না, হয়তো অনলাইনে বা টিভিতে দেখেছে যে কমপ্লিট শাটডাউনে সবকিছু বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। আর সেটা তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করছে। এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণই আন্দোলনকে সফল করেছিল।’
আগামীর বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘প্রথম দিকে আমরা অনেকটা স্বতঃস্ফূর্তভাবেই নেতৃত্বের সামনের সারিতে উঠে এসেছিলাম। আমাদের রাজনৈতিক বোঝাপড়া আর পূর্ব-অভিজ্ঞতা হয়তো অর্থপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। কোটা সংস্কার থেকে আন্দোলনটি সরকার পতনের এক দফার দিকে নিয়ে যাওয়ার অভিযাত্রা আমাদের দীর্ঘ বোঝাপড়া এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াইয়ের ফলাফল।’
‘কত রাত যে আমরা ঘুমাতে পারিনি দুশ্চিন্তায়, কত নির্ঘুম রাত কেটে গেছে আলোচনার টেবিলে, কত সহযোদ্ধা যে আমাদের সঙ্গ দিয়েছে-তার কোনো ইয়ত্তা নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে আর দশজনের মতো সরকারি চাকরির দিকে না ঝুঁকে প্রথম বর্ষেই বেছে নিয়েছিলাম রাজনীতি। কোনো লোভে নয়, অন্যায়ের প্রতি ক্ষোভে। একাধিক মামলার আসামি হয়েছি, কারাবরণ করেছি, নিরাপত্তা ছিল না, একাধিকবার হামলার শিকার হয়েছি। মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে সব ছেড়েছুড়ে ৯টা-৫টার অফিস আর নিরাপদ জীবন বেছে নিলেই ভালো। পরক্ষণেই মনে হয়েছে, থাকি, লড়ি যত দিন পারি। হয় মাতৃভূমি, নয়তো মৃত্যু। ক্ষেত্র তো প্রস্তুতই ছিল। মানুষের মধ্যে এই ঐকমত্য ছিল যে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় থাকতে দেওয়া যাবে না। এটা মানুষের মনে আরও বেশি করে গেঁথে গিয়েছিল আন্দোলনের প্রথম পর্যায়েই তিন শতাধিক মানুষের হত্যাকাণ্ডের পর।’
‘ঐকমত্য মানুষের মধ্যে ছিল, কিন্তু সেটাকে সংগঠিত করে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছিল আমাদের অনেকের বহু দিনের রাজনৈতিক বোঝাপড়া ও ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ের কারণে’, যোগ করেন আসিফ মাহমুদ।


