প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামের স্ত্রীসহ চার ভিআইপিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আপত্তিকর পোস্ট ছড়ানোর অভিযোগে আরও দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা সংঘবদ্ধ চক্র। তারা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপদস্থ ব্যক্তি এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়ে অশালীন, মানহানিকর ও কুরুচিপূর্ণ ছবি-ভিডিও তৈরি করে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়। এআইয়ের (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) মাধ্যমে এসব ছবি ও ভিডিও তৈরি করা হয়।
রোববার দুপুরে এক ব্রিফিংয়ে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড ইন্তেখার চৌধুরী এসব তথ্য জানান। গতকাল শনিবার ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন নজরুল ইসলাম ও মো. ইসমাইল ওরফে রুবেল।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে মামুন লস্কর সরকার ও রবিন তাজ এবং শুক্রবার কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম থেকে জয়নাল আবেদীন মানিক ও মো. হেলাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ।
র্যাব কর্মকর্তা ইন্তেখার চৌধুরী জানান, গত বছরের শেষভাগ থেকে বিভিন্ন ফেসবুক আইডি, গ্রুপ, পেজ, ইউটিউব চ্যানেল ও টেলিগ্রাম গ্রুপের মাধ্যমে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিয়ে এআই প্রযুক্তিতে তৈরি অশালীন, মানহানিকর ও বিভ্রান্তিকর ছবি ও ভিডিও পরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
এসব কনটেন্টের কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ায় এ বিষয়ে একাধিক মামলা হয়। উপদেষ্টার স্ত্রীকে হয়রানির ঘটনায় গুলশান থানায় মামলা হলে পুলিশ ও একাধিক সংস্থা তদন্তে নামে।
ছয়জনকে গ্রেপ্তারের পর তাদের ব্যবহৃত বিভিন্ন ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এসব ডিভাইস থেকে পাওয়া আলামত বিশ্লেষণ করে পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্তের কাজ চলছে, বলেন তিনি।
ইন্তেখার জানান, তদন্তে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটর ও ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছেন।
তানভীর জোহা বলেন, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একাধিক ছবি ও ভিডিও এআই প্রযুক্তিতে তৈরি। এসব কনটেন্টকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন অনলাইন গ্রুপ ও প্ল্যাটফর্মে সমন্বিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তদন্তে এমন একটি সংঘবদ্ধ নেটওয়ার্কের তথ্য পাওয়া গেছে, যারা জেলাভিত্তিক অনলাইন গ্রুপ ও বট নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে এসব কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে দিত।
শুধু উপদেষ্টার স্ত্রী নয়, সরকারের চারজন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও তাদের পরিবারকেও একইভাবে হেনস্তার কথা জানানো হয়েছে।
টাইমস অব বাংলাদেশকে র্যাবের মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক বলেন, চারটি অভিযোগ তদন্তে গোয়েন্দারা তাদের সম্পৃক্ততা পেয়েছে।


