ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তিতে জটিলতা এবং অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশিরা চিকিৎসায় বিদেশমুখী প্রবণতা কমেছে। ফলে দেশের উত্তরের জেলা দিনাজপুর হৃদরোগীদের আস্থার নতুন আশ্রয়স্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে।
সম্প্রতি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং জেলার অন্যান্য বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে হৃদরোগে আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েছে চোখে পড়ার মতো।
দিনাজপুর মেডিকেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ৫০০ শয্যার দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে শয্যা সংখ্যা ৯০টি। এখানে প্রতি মাসে অন্তত ৮০ জন রোগীর অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, ২০ জনের স্টেন্টিং (হার্টের রিং) স্থাপন এবং ১০ জনের পেসমেকার স্থাপন করা হচ্ছে। যা বিগত বছরগুলোর চেয়ে অনেক বেশি।
রোগীরা জানান, সহজে ভিসা না পাওয়ায় প্রথমে দুশ্চিন্তা হলেও এখন দেশেই কম খরচে উন্নত চিকিৎসা পাচ্ছেন তারা। যা বিদেশে গেলে পাঁচ-ছয় গুণ বেশি ব্যয়বহুল হতো।

দিনাজপুর সদর উপজেলার রানীপুরের শাহীন আলম ভিসার জটিলতা ও আর্থিক সংকটের কারণে প্রথমে ভারতে যেতে পারেননি। পরে দিনাজপুর মেডিকেলে কার্ডিওলজি বিভাগে ভর্তি হয়ে মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে সার্জারি করে পেসমেকার স্থাপন করা হয়।
তার বাবা আজীম উদ্দীন জানান, ভারতে এই চিকিৎসার জন্য খরচ হতো পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা। কিন্তু দিনাজপুরের সরকারি হাসপাতালে খরচ হয়েছে মাত্র এক লাখ ৭৫ হাজার টাকা।
‘ভিসা না পেয়ে বাধ্য হয়ে দিনাজপুর হাসপাতালে এসে চিকিৎসা নিয়েছি। চিকিৎসক হার্টে রিং বসিয়েছেন। রিং-এর দাম বাদে আমার খরচ হয়েছে মাত্র দুই হাজার টাকা! বাংলাদেশেই যে এত অল্প খরচে এই চিকিৎসা হয় তা ভারতীয় ভিসা না পেলে জানতে পারতাম না’ বলে জানান ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ থেকে আসা আরমান আলী।
হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অধ্যাপক ডা. শাহরিয়ার কবীর বলেন, ‘হাসপাতালে অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্টিং ও পেসমেকার স্থাপনের মতো সব কাজই করা হচ্ছে। শুধু বাইপাস সার্জারির জন্য রোগীদের ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। আমাদের দেশেই হৃদরোগের ভালো চিকিৎসা সম্ভব। এজন্য বিদেশে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ ফজলুর রহমান বলেন, ‘রোগীদের ভারতে যাওয়ার প্রবণতা কমে যাওয়ায় এখানে চিকিৎসা নিতে আসা হৃদরোগীর সংখ্যা বেড়েছে। রোগীদের সেবার জন্য চিকিৎসা সরঞ্জাম বৃদ্ধির চেষ্টা চলছে।’
দিনাজপুর মেডিকেল ছাড়াও বেসরকারি জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন এবং কেয়ার স্পেশালাইজড জেনারেল হাসপাতালেও কার্ডিয়াক বেড রয়েছে ৫০টি। জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে বাইপাস সার্জারি, এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টিসহ হৃদরোগের সব চিকিৎসা করা হয়।
রংপুরের মুন্সীপাড়ার বাসিন্দা সাহেরা বেগম। তিনি জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে এখন ভালো আছেন। সাহেরা বলেন, ‘দেশেই দ্রুত চিকিৎসা পেয়েছি। ভারতে আর যেতে হলো না। বেশ ভালো লাগছে।’
জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালের সাধারণ সম্পাদক একেএম আজাদ জানান, ২০০২ সালে কার্যক্রম শুরু হওয়া এই হাসপাতালে দ্রুত চিকিৎসা হওয়ার কারণে উত্তরাঞ্চলে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। এখন পর্যন্ত এখানে এক লাখ ২৬ হাজার ১৫১ জন রোগীর চিকিৎসা সেবা দেওয়া হয়েছে।


