গাজীপুরের মির্জাপুর ইউনিয়ন পরিষদে হামের বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত। রোববার সকাল ১০টায় তিনি এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
এ সময় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় আজ থেকে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। আমাদের সরকার একটা বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্তগুলো নিচ্ছে। আমাদের টিকাদান বিষয়ক একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি আছে। একটি সার্ভিলেন্সের মাধ্যমে প্রতিদিন আমরা সারাদেশ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি।’
‘সেই তথ্যের ভিত্তিতে আমরা কোন কোন উপজেলা বেশি আক্রান্ত সেগুলোকে শনাক্ত করছি। আমাদের এই বিশেষজ্ঞ কমিটি আমাদেরকে পরামর্শ দিচ্ছে। আমাদেরকে সহযোগিতা করছে ইউনিসেফ এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মত প্রতিষ্ঠানগুলো। আমরা তথ্যের ভিত্তিতে, বিজ্ঞানের ভিত্তিতে এই কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করছি যাতে কোথাও কোন ভুল আমাদের না হয়’, যোগ করেন প্রতিমন্ত্রী।
কয়েকদিন পরে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন, ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন, বরিশাল সিটি কর্পোরেশন গুলোতেও এই কর্মসূচি শুরু করা হবে বলে জানান এম এ মুহিত।
তিনি বলেন, ‘আমাদের এই ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে আরেকটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান আমাদের সহযোগিতা করে সেটির নাম গাভি গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিন। তারা আমাদেরকে এই কর্মসূচিতে সর্বাত্মক সহযোগিতা করেছে। আমি তাদেরকেও ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানাতে চাই।’
‘মাত্র ১৮ ঘন্টার নোটিশে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সিভিল সার্জন এবং স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা কর্মচারীরা কাজ শুরু করেছেন। আমাদের সরকার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে পদক্ষেপ নিচ্ছে’, জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘যে জায়গাগুলোতেই ঘাটতি আছে আমরা দায়িত্ব নিচ্ছি এবং দায়িত্ব নিয়েছি। সেই ঘাটতিগুলো আমরা পূরণ করছি। কর্মসূচি শুরু হয়েছে, কর্মসূচি চলবে। কোনরকম ঘাটতি আমরা রাখব না।’
জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা আমাদের সহযোগিতা করুন। জনগণকে সম্পৃক্ত করার কাজে আপনাদের ভূমিকাটা আজকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা আজকের দিনে অন্তত সেটাতেই মনোযোগ দেই।’
‘দেশের সব শিশুদের টিকা নিশ্চিত করতে পারলে আমরা নিরাপদ হব। আমাদের দেশের শিশুরা সুস্থ নিরাপদ থাকবে। আমরা দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করেছি। ইনশাআল্লাহ টিকার কোন রকম ঘাটতি হবে না।’
রোববার থেকে শুরু করে ২মে পর্যন্ত গাজীপুর জেলায় ২৮ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনা হবে।


