চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হয়েছেন লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা। রোববার ভোট গণনা শেষে দেশটির নির্বাচনী আদালত তাকে বিজয়ী ঘোষণা করে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া সমালোচক লুলার এই জয় লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্নদের স্বস্তি দিয়েছে।
নির্বাচনে ৫১ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট পেয়েছেন লুলা। তার প্রতিদ্বন্দ্বী ফ্লাভিও বলসোনারোর চেয়ে তিনি প্রায় ৪৪ লাখ ভোট বেশি পেয়েছেন। তবে ফল ঘোষণার পরও পরাজয় মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বলসোনারো। ভোট গ্রহণের সময়সীমা দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে তিনি নির্বাচন বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
ফ্লাভিও বলসোনারো ব্রাজিলের সাবেক প্রেসিডেন্ট জইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে জইর বলসোনারোকে হারিয়েই প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন লুলা।
বিজয়ী হওয়ার পর সমর্থকদের উদ্দেশে দেওয়া বক্তব্যে লুলা বলেন, এই জয় মিথ্যা ও অস্বীকারের রাজনীতির পরাজয়। ব্রাজিলের সার্বভৌমত্বের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘এই দেশ কারও অধীনস্ত হয়ে থাকবে না। ।’
ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা থাকা ডানপন্থী নেতাদের সাম্প্রতিক নির্বাচনী সাফল্যের ধারার বাইরে গিয়ে লুলার জয়কে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বার্ষিক ২ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতির দেশ ব্রাজিল যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কচাপের মধ্যেও ওয়াশিংটনের দাবির বিরোধিতা অব্যাহত রাখতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ভোটের দিন কিছু কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার পর ভোট গ্রহণের সময় দুই ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় দেশটির সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ক্রিস্তিয়ানো জানিন। দুই প্রার্থীর অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। লুলার পক্ষ থেকে সাও পাওলো ও সালভাদরে ভোটার পরিবহনে সমস্যার কথা জানানো হয়েছিল। অন্যদিকে, বলসোনারোর পক্ষ থেকে দক্ষিণাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে সময় বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়।
তবে নির্বাচনী আদালতের প্রেসিডেন্ট কাসিও নুনেস মার্কেস বলেছেন, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর কারণে নির্বাচনের ফলাফলে কোনো প্রভাব পড়েনি। আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচন বাতিলের দাবি জানাতে পারলেও বলসোনারোকে প্রমাণ করতে হবে যে ওই সিদ্ধান্ত ভোটারদের স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার অধিকার ক্ষুণ্ন করেছে।
জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছিল। প্রথম দফার ভোটে লুলার চেয়ে ২২ লাখের বেশি ভোট পেয়েছিলেন বলসোনারো। তবে দ্বিতীয় দফায় তরুণ ভোটারদের সমর্থন আদায় এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ রক্ষার আহ্বান জানিয়ে প্রচার চালান লুলা।
১৯৭০-এর দশকে শ্রমিকনেতা হিসেবে রাজনীতিতে যাত্রা শুরু করেন লুলা। পরে ওয়ার্কার্স পার্টি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখেন তিনি। ২০০২ সালে প্রথমবার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন তিনি এরপর ২০০৬ সালে পুনর্নির্বাচিত হন। ২০২২ সালে দ্বিতীয়বারের মতো বিরতি শেষে প্রেসিডেন্টের দায়িত্বে ফেরেন তিনি। নতুন মেয়াদে আগামী ৫ জানুয়ারি ২০২৭ দায়িত্ব গ্রহণের কথা রয়েছে তার।


