মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা কমাতে ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনার জন্য তেহরানে পৌঁছেছেন সৌদি আরবের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজের ছেলে প্রিন্স খালিদ বিন সালমান। তার নেতৃত্বে সৌদি আরবের একটি প্রতিনিধিদল মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে এ সফরে অংশ নিচ্ছে।
সৌদি আরবের জনকূটনীতিবিষয়ক উপমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত রায়েদ ক্রিমলি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে সফরের বিষয়টি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, এ সফরে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। ইরানের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।
মক্কা চুক্তিতে সই করা দেশগুলোর পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদলে রয়েছেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং তুরস্কের জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
সৌদি আরব ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলার জেরে আরও গভীরভাবে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার পর সোমবারের নির্ধারিত বৈঠকটি হতে যাচ্ছে ইরান ও মক্কা চুক্তিতে সই করা সব সদস্যের মধ্যে প্রথম উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ।
গত আগস্টে সই হওয়া মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি অনুযায়ী, জোটের কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সব সদস্যদেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচিত হবে।
সফরসূচি অনুযায়ী, মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এবং দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব মহসেন রেজায়ির সঙ্গে বৈঠক করবেন।
রায়েদ ক্রিমলি বলেন, আঞ্চলিক সংকটে জড়িত পক্ষগুলোর মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে চুক্তিভুক্ত দেশগুলো যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, এ সফর তারই অংশ।
আলোচনার আরেকটি উদ্দেশ্য হলো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংকট নিরসনে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে সমর্থন দেওয়া।
ক্রিমলির মতে, এ সফর আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা জোরদারে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিভুক্ত দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা তুলে ধরছে।
উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ এগিয়ে নিতে এ অঞ্চলের সব দেশের সঙ্গে কাজ করার বিষয়ে চুক্তিভুক্ত দেশগুলো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের হামলা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হুমকি ও উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য আরও তীব্র হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর বড় পরিসরে আবারও যুদ্ধ শুরুর শঙ্কা জানিয়ে দুই দেশই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনায় ইসরায়েলের সম্প্রসারণবাদী নীতি, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড ও লেবাননের পরিস্থিতি এবং ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পরিণতি অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় এ বৈঠকের প্রস্তাব দেওয়া হয়। বৈঠকটি আঞ্চলিক দেশগুলোর স্বার্থের ভিত্তিতে নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রথম পদক্ষেপ হতে পারে।
আঞ্চলিক উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে রোববার তেহরানে ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন কাতারের মধ্যস্থতাকারীরা। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, গত কয়েক মাস ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে কাতার।
ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আসিম মুনিরের তেহরান সফরের সময় পাকিস্তানের উদ্যোগেই বৈঠকটির প্রস্তাব আসে। ওই সফরে মুনির ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ইরানের সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সফরকালে ইরানি কর্মকর্তারা মুনিরকে জানান, তেহরানের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো আলোচনা হবে না।
এর আগে পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় গত জুনে একটি অন্তর্বর্তী শান্তিচুক্তি হয়েছিল। তবে কয়েক সপ্তাহ পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আবারও লড়াই শুরু হলে চুক্তিটি দ্রুত ভেস্তে যায়।


